“ভোট পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নাচতেও প্রস্তুত”, রাহুল গান্ধীর মন্তব্যে বিতর্ক। বিহারে ভোটপ্রচারে প্রতিবন্ধকতা লাগানোর দাবিতে কমিশনে নালিশ বিজেপির।
মাম্পি রায়, সাংবাদিক : দোরগোড়ায় বিহার নির্বাচন। তার আগে কুকথা, বিতর্কিত মন্তব্যের ঝড় দেশজুড়ে। নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানাল বিজেপি।
“ নরেন্দ্র মোদী সবধরণের নাটক করতে প্রস্তুত। নির্বাচনী প্রচারের সময় যদি আপনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটু নেচে দেখান, তাহলে আমরা আপনাকে ভোট করবো, উনি ভারত নাট্যম নেচে দেখাবেন।“

বিহারের দ্বারভাঙার মুজফ্ফরপুরে একটি নির্বাচনী প্রচারে এমনই বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এই মন্তব্য নিয়ে চরমে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। ইলেকশন কমিশন কোঅর্ডিনেশন ডিপার্টমেন্টের বিজেপি আহ্বায়ক বিন্ধ্যাচল রাই ৩ পাতার একটি রিপোর্ট জমা দিয়ে নালিশ করেছেন। “এধরণের মন্তব্য ব্যক্তিগত, বিদ্রুপকারী এবং ভারতের প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের মর্যাদাকে অপমান করার উদ্দেশ্যেই এই মন্তব্য করা হয়েছে।“ এই মর্মে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়েছে বিজেপি। “দ্রুত রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হোক“, দাবি ভারতীয় জনতা পার্টির। এখানেই শেষ নয়, “বিহারে রাহুলের প্রচারে প্রতিবন্ধকতা লাগাতে হবে। পাশাপাশি রাহুল গান্ধীকে ক্ষমতা চাইতে হবে“, এই দাবিও তুলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
এদিকে সর্দার বল্লভভাই পটেলের ১৫০ তম জন্মবার্ষিকীতে একাধিক প্রসঙ্গ উস্কে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গুজরাটের কেভাদিয়ায় স্ট্যাচু অব ইউনিটিতে গিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে জাতির উদ্দেশে বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সর্দার পাটেল গোটা কাশ্মীরকে অন্যান্য রাজ্যের মতোই করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নেহরুজি সেই ইচ্ছে পূরণ করতে দেননি। ফলস্বরূপ কাশ্মীর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, সেখানে পৃথক সংবিধান, পৃথক পতাকা উড়ত। দশকের পর দশক কংগ্রেসের কর্মের সাজা ভোগ করেছে দেশ।“

মোদী আরও বলেন, “এক সময় এই দেশের একটা বড় অংশ ছিল মাওবাদী ও নকশালদের কবলে। সেই সব মাওবাদী অধ্যুষিত অংশগুলিতে ভারতের সংবিধান চলত না, চলত তাঁদের শাসন। কিন্তু ২০১৪ সালের পর আমরা নকশাল ও নকশাল সমর্থকদের একেবারে ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছি। ওদের ঘরে ঢুকে শায়েস্তা করেছি। যার পরিণাম আজ দেশবাসীও দেখছে। ২০১৪ সালের আগে পর্যন্ত দেশের শতাধিক জেলা ছিল মাওবাদীদের কবলে। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ১১-তে নেমে এসেছে। এর মাত্র তিনটি জেলাই সংবেদনশীল।“
কংগ্রেসকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “স্বাধীনতার পর দেশবাসী যাঁদের হাতে দেশের দায়িত্ব সপে দিল, তাঁরাই দেশের জাতীয় চেতনা ভাবধারাকে নষ্ট করে দিল। যে প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন ওনাদের মানসিকতা, ভাবধারার বিরোধী তাঁদের বিরুদ্ধে আসরে নেমেছিল কংগ্রেস। এরা বাবা সাহেব অম্বেদকর, বল্লভভাই পটেল, এমনকি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকেও রেহাই দেয়নি। তাঁদের সম্মান করেনি। মানুষ জানে ওঁদের সঙ্গে কংগ্রেস কী আচরণ করেছে!“
কংগ্রেসকে বিঁধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বললেন, “এই বছর সঙ্ঘ পরিবার শতবর্ষ পূরণ করেছে। কংগ্রেস ওদেরকেও আক্রমণ করতে ছাড়েনি। সঙ্ঘ পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক ষড়যন্ত্র করেছে। সঙ্ঘের প্রতিটি বিচার ও ভাবধারা মানুষের কাছে বিকৃত করেছে কংগ্রেস। তবে আমরা এই বিভাজনের রাজনীতিকে শেষ করে দিয়েছি।“
মোদীর কটাক্ষকে মোটেও ভালোভাবে নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী নেহরুকে নিয়ে করা মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য,
“রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ নিষিদ্ধ করা হোক। এমনকি সর্দার বল্লভভাই পাটেলও আরএসএসের কার্যকলাপের কারণে তাতে সরকারি কর্মচারিদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছিলেন। ২০২৪ সালে বিজেপি সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল। পাটেলজির ওই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হোক।“