শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা: বসিরহাট মহাকুমার বসিরহাট থানার অন্তর্গত ভারত-বাংলাদেশ ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত। বিএসএফের নজর এড়িয়ে বাংলাদেশ থেকে তিন বন্ধু ভারতে প্রবেশ করে। এক বন্ধুকে ছেড়ে দিয়ে চম্পট দেয় দুই বন্ধু। তারপর এক বন্ধু দিশেহারা হয়ে হিঙ্গলগঞ্জ থানার বাঁকড়ার কাট পোল এলাকায় পৌঁছয়। সেখান থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। ঠিক সেইসময় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই বাংলাদেশি যুবককে গ্রেফতার করে হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ। ধৃত জানায়, “আমার বন্ধুরা কাজের সূত্রে আমাকে ওপার থেকে এপারে নিয়ে এসেছিল। আমরা তিনজন ছিলাম তারপর ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত থেকে পার হওয়ার পর আমার দুই বন্ধু আমাকে ছেড়ে চলে যায়।“

ওই বাংলাদেশি যুবকের নাম রাসেল, তার বাড়ি বাংলাদেশের টুঙ্গী জেলায়। ধৃতকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে” সীমান্তে এত কড়া পাহারা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে বিএসএফের চোখে ধুলো দিয়ে তিনজন অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করল? এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থল বন্দরে তা নিয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। তাহলে নিরাপত্তা কোথায়?

এর আগে দেখা যেত বিভিন্ন সীমান্তের কাঁটাতার না থাকার কারণে অনুপ্রবেশকারীরা অনায়াসে যাতায়াত করতে পারত। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি হয়েছে তার ফলে ভারতের সীমানা বরাবর একদিকে বাড়ানো হয়েছে বিএসএফের সংখ্যা, বসানো হয়েছে নাইট ভিশন সিসিটিভি ক্যামেরা, পাশাপাশি রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়া টহলদারি। তারপরও কীভাবে অনুপ্রবেশ হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন উঠেছে। যদি অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে না পারে তাহলে আগামী দিন বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে ভারত, তাই সাধারণ মানুষ চাইছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী সচেতন হোক তা না হলে তার মাশুল দিতে হবে সীমান্তে বসবাসকারীদের। এর আগে অবৈধ অনুপবেশ করতে দেখা যেত বিভিন্ন স্থল সীমান্ত দিয়ে। এখন অনুপ্রবেশকারীরা জল ও জঙ্গলও বেছে নিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে সুন্দরবনের রায়মঙ্গল নদী পার হয়ে। এই করিডরটির মাধ্যমে সুন্দরবনের জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ঢুকে অনায়াসে তারা ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে। তার প্রমাণস্বরূপ দেখা যাচ্ছে গত একমাসে ৫০ জনের উপর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাই জল ও জঙ্গল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হোক তা না হলে আগামীদিনে আরও বেশি পরিমাণে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকতে পারে বলে মনে করছেন সুন্দরবনের মানুষ।