“প্রেমে ধর্ম নয়, ব্যক্তিস্বাধীনতাই শেষ কথা”

এক ভিনধর্মের প্রেমিক যুগলের পাশে কলকাতা হাইকোর্ট।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ১৫-১৬ বছরের সম্পর্কের পর ভিনধর্মে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া এক যুগলের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের বিয়েতে পুলিশি নিরাপত্তার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রাপ্তবয়স্ক দু’জন ব্যক্তি নিজেদের সম্মতিতে বিয়ে করলে তাতে কোনও ব্যক্তি, সংগঠন বা গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের অধিকার নেই। ২৯ জুলাই নির্ধারিত বিয়ের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মামলাকারী তরুণীর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় আদালতে জানান, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে যুগলকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের নোটিশ প্রকাশের পর তরুণীর বাবাকে ডেকে আপত্তি জানাতে চাপ দেওয়া হয়। এমনকি বিয়ে হলে পারিবারিক ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি।রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, উলুবেড়িয়া এলাকায় ইতিমধ্যেই পুলিশ নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। তবে যুগলের আইনজীবীদের বক্তব্য, পরিবারের চেয়ে বাইরের বিভিন্ন গোষ্ঠীর বাধাই তাঁদের কাছে বেশি উদ্বেগের বিষয়।শুনানিতে তরুণীর পক্ষ থেকে আদালতে স্পষ্ট করে জানানো হয়, এটি কোনওভাবেই ‘লাভ জিহাদ’-এর ঘটনা নয়। দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিয়ের পরও উভয়েই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন বলেও আদালতে জানানো হয়। ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা।সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, ভারতীয় সংবিধান প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের নিজেদের পছন্দমতো জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার দিয়েছে। সেই সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্র ও পুলিশের দায়িত্ব। তাই কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।