ভেনেজুয়েলার তেল কিনছে ভারত

আমেরিকার মাধ্য়মে ভেনেজুয়েলার তেল হাতে পাচ্ছে ভারত।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভারতের জ্বালানি কূটনীতিতে যোগ হল নতুন মাত্রা। মার্কিন সংস্থা শেভরনের (Chevron)-এর হাত ধরে ফের ভেনেজ়ুয়েলার তেল ঢুকছে ভারতে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স (Reuters) সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দুবছর পর আবারও ভেনেজ়ুয়েলার অশোধিত তেল কিনেছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিস (Reliance Industries).

রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, ভেনেজ়ুয়েলার বসকান তৈলক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত অপরিশোধিত তেলই এই চুক্তির আওতায় আসছে। চলতি মাসেই শেভরনের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে রিলায়্যান্সের। যদিও সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

শুধু রিলায়্যান্সই নয়, আরও একাধিক ভারতীয় সংস্থা ভেনেজ়ুয়েলার তেল কেনার ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখিয়েছে। রয়টার্সের দাবি, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (Indian Oil Corporation), হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (Hindustan Petroleum Corporation Limited) এবং ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (Bharat Petroleum Corporation Limited)-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থাগুলিও বরাত দিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি ক্ষেত্রে রিলায়্যান্স এবং এইচপিসিএল-মিত্তল গোষ্ঠীর নামও উঠে এসেছে সম্ভাব্য ক্রেতার তালিকায়।

পটভূমিতে রয়েছে আমেরিকার নীতি পরিবর্তন। ২০১৯ সালে ভেনেজ়ুয়েলার তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ওয়াশিংটন। তার আগে ভারত ছিল ভেনেজ়ুয়েলার তেল আমদানিকারী দেশগুলির মধ্যে তৃতীয় স্থানে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আবারও সে দেশের তেল নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বেড়েছে। ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) কেন্দ্র করে কূটনৈতিক টানাপড়েনের পর মার্কিন সংস্থাগুলির সে দেশের তেলক্ষেত্রে আবার প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর গত সপ্তাহেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দিল্লির সঙ্গে এ বিষয়ে সক্রিয় আলোচনা চলছে। আমেরিকার আগ্রহ স্পষ্ট—ভেনেজ়ুয়েলার তেল আন্তর্জাতিক বাজারে ফের স্বাভাবিক গতিতে ফিরুক এবং সেই প্রবাহে ভারত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হোক।

ভারতের অবস্থানও পরিষ্কার। জ্বালানি আমদানিতে কোনও একটি দেশের উপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না নয়াদিল্লি। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে যে উৎস থেকে তেল বেশি লাভজনক, সেখান থেকেই কেনা হবে—এই নীতিতেই অটল কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ভেনেজ়ুয়েলার কাছে বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার রয়েছে—প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সঙ্গে তেল সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বাজারদরে উচ্চমানের তেল বিক্রির মাধ্যমে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, বিশ্ব জ্বালানি রাজনীতির অঙ্কে ফের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ভেনেজ়ুয়েলা। আর সেই অঙ্কে ভারতের উপস্থিতি ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।