ওমানের সঙ্গে গভীর সমুদ্র পাইপলাইনের পরিকল্পনা করছে ভারত

বিশ্বজিৎ নস্কর, সাংবাদিক : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর জ্বালানি আমদানির অত্যধিক নির্ভরতা কমাতে ভারত সরকার ওমানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও কৌশলগত প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ওমান থেকে গুজরাট পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গভীর সমুদ্র গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনাটি এখন নতুন করে গতি পেয়েছে।
প্রকল্পের লক্ষ্য: হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল জলপথ। এখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়। এই পথে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা বাধা সৃষ্টি হলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। এই নির্ভরতা দূর করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
রুট ও প্রযুক্তি: ওমানের রাস আল জিফান থেকে আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে পাইপলাইনটি গুজরাটের পোরবন্দরে এসে পৌঁছাবে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৪৫০ মিটার গভীরে স্থাপন করা হবে, যা বিশ্বের অন্যতম গভীর সাবসি (subsea) পাইপলাইন প্রজেক্ট হতে চলেছে।
আনুমানিক ব্যয়: এই মেগা প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা (প্রায় ৪.৭–৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
বাস্তবায়নকারী সংস্থা: ভারত সরকার এর সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রকল্পের নকশা তৈরির জন্য গেইল (GAIL), ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (EIL) এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনকে (IOC) দায়িত্ব দিয়েছে।
এই প্রকল্পের সুবিধা:-
১. জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করা: পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরাসরি পৌঁছাবে, ফলে জাহাজে করে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং পরিবহন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
২. অর্থনৈতিক নিরাপত্তা: হরমুজ প্রণালীতে সংকটের কারণে ভারতের জ্বালানি আমদানিকারক সংস্থাগুলোর যে বিশাল আর্থিক লোকসান হয়, তা অনেকাংশে লাঘব হবে।
৩. শিল্পের বিকাশ: দৈনিক ৩১ থেকে ৫৬ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস পরিবহণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই পাইপলাইন ভারতের বিদ্যুৎ, সার এবং পেট্রোকেমিক্যাল খাতে নতুন গতি আনবে।
৪. কৌশলগত অংশীদারিত্ব: এই প্রজেক্টের সাথে ভারত ওমানের পাশাপাশি নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোর প্রযুক্তিগত সহায়তার কথাও শোনা যাচ্ছে, যা ভারতের জ্বালানি কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে এবং প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সমীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে, আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে, যা ভারতের জ্বালানি ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপট বদলে দেবে।