ভারত-দক্ষিণ কোরিয়ার শান্তির বার্তা

বিশ্ব অশান্তির আবহে ভারত-দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা—‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা’

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: আন্তর্জাতিক অস্থিরতার আবহে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া একসঙ্গে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে—সোমবার এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। রাজধানীর হায়দরাবাদ হাউসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট Lee Jae-myung-এর সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এই বার্তা দেন তিনি।

উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা চুক্তি (MoU) সই হয়। প্রতিরক্ষা, নবায়নযোগ্য শক্তি, সামুদ্রিক সহযোগিতা-সহ একাধিক কৌশলগত ক্ষেত্রে এই চুক্তিগুলি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারত ও কোরিয়া একসঙ্গে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সহযোগিতার পক্ষে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমশ বেড়েছে। মার্কিন-ইজরায়েল জোট এবং ইরানের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তার জেরে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত-কোরিয়া সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক সৌর জোট (International Solar Alliance) এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ওশান্স ইনিশিয়েটিভে যোগদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান মোদি। তিনি বলেন, “এটি আমাদের সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে।”

একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন দুই দেশের নেতৃত্ব। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী এই দুই দেশ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেই ইঙ্গিত মেলে।

ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন Rabindranath Tagore-কে। তাঁর ভাষায়, “প্রায় একশো বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোরিয়াকে ‘ল্যাম্প অফ দ্য ইস্ট’ বলেছিলেন। আজ সেই কোরিয়াই উন্নত ভারত গঠনের পথে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী।”

সব মিলিয়ে, বিশ্ব অস্থিরতার মাঝেই ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই ঘনিষ্ঠতা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই আশাবাদ দুই দেশের নেতৃত্বের।