অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এই MIRV প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে একটিমাত্র ক্ষেপণাস্ত্রের মাথায় একাধিক পারমাণবিক বোমা বসানো থাকে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, সাংবাদিক : ভারতের সামরিক শক্তিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অগ্নি-৫ (Agni-V) ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত এখন বিশ্বের সেই হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে, যাদের কাছে MIRV (Multiple Independently Targetable Re-entry Vehicle) প্রযুক্তি রয়েছে।
এই বিশেষ সাফল্যের গুরুত্ব এবং অগ্নি-৫ এর ক্ষমতা নিচে আলোচনা করা হল:
১. MIRV প্রযুক্তির বিশেষত্ব
অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এই MIRV প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে একটিমাত্র ক্ষেপণাস্ত্রের মাথায় একাধিক পারমাণবিক বোমা (Warhead) বসানো থাকে।
একাধিক লক্ষ্যবস্তু: একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ থেকে নামার সময় আলাদা আলাদা হয়ে একাধিক শত্রুর ঘাঁটিতে নিখুঁতভাবে আঘাত করতে পারে।
প্রতিরক্ষা ভাঙার ক্ষমতা: শত্রুপক্ষের রাডার বা মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের পক্ষে একসঙ্গে অনেকগুলো ধেয়ে আসা লক্ষ্যবস্তুকে থামানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

২. পাল্লা ও সক্ষমতা
অগ্নি-৫ একটি Intercontinental Ballistic Missile (ICBM) বা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
পাল্লা: এটি ৫,০০০ থেকে ৫,৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর আওতায় পুরো এশিয়া মহাদেশ এবং ইউরোপ ও আফ্রিকার একাংশ চলে আসে।
গতি: এই ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে ২৪ গুণ বেশি দ্রুত গতিতে (Mach 24) ছুটতে পারে।
৩. কেন এটি ভারতের জন্য বড় জয়?
প্রতিরোধ ক্ষমতা (Deterrence): ভারতের ‘আগে পরমাণু হামলা নয়’ (No First Use) নীতির ক্ষেত্রে এই ক্ষেপণাস্ত্র একটি শক্তিশালী স্তম্ভ। এটি শত্রুপক্ষকে ভারতের ওপর হামলা করার আগে দুবার ভাবতে বাধ্য করবে।
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি: এই পুরো প্রকল্পটি DRDO (Defence Research and Development Organisation)-এর বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল। এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার এক বড় উদাহরণ।
৪. প্রযুক্তির নিরিখে ভারত যেখানে
এর আগে শুধুমাত্র আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের কাছে এই MIRV প্রযুক্তি ছিল। ভারত এখন এই এলিট ক্লাবের ষষ্ঠ সদস্য।
এই পরীক্ষার সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়ে একে ‘মিশন দিব্যাস্ত্র’ (Mission Divyastra) হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভারতের এই অগ্রগতি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করল।