মোদীকে ‘স্পিকার অফ দ্য নেসেট মেডেল’ প্রদান ইজরায়েলের। নেসেটে ‘জ়িরো টলারেন্স’ বার্তা মোদীর।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : গাজ়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের পাশে থাকার বার্তা দিল ভারত। বুধবার ইজ়রায়েলের পার্লামেন্ট Knesset-এ ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানালেন, “শান্তির পথ সহজ নয়। কিন্তু এই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর উদ্যোগের পাশে রয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি শান্তি স্থাপন সম্ভব।”
ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-র উপস্থিতিতেই মোদী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বিষয়ে বললেন। তাঁর কথায়, “ইজ়রায়েলের মতোই ভারতও সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। কোথাও যদি সন্ত্রাস হয়, তবে সর্বত্রই শান্তি বিঘ্নিত হয়।” গাজ়ার পরিস্থিতি এবং বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা নিয়ে দুই দেশের কৌশলগত বোঝাপড়ার ইঙ্গিতও মিলেছে এই বার্তায়।

ভারত-ইজ়রায়েল সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোদীকে ‘স্পিকার অফ দ্য নেসেট মেডেল’ প্রদান করা হয়। নেসেটের স্পিকার আমির ওহানার ভাষণ শেষে তাঁকে ওই সম্মাননা দেওয়া হয়। মোদীই প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রনেতা যিনি এই সম্মান পেলেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্যালেস্টাইনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘গ্র্যান্ড কলার অফ দ্য স্টেট অফ প্যালেস্টাইন’-এ ভূষিত হয়েছিলেন মোদী। যা ভারত-প্যালেস্টাইন সম্পর্কের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির দৃষ্টান্ত হিসেবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রধানমন্ত্রিত্বের দ্বিতীয় ইজ়রায়েল সফরে মোদীর সঙ্গে নেতানিয়াহুর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে গাজ়া পরিস্থিতি উঠে এসেছে বলে বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর। ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী প্যালেস্টাইনি ভূখণ্ডে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’ বৈঠকে ভারত ইতিমধ্যেই পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছে। যা প্রমাণ করে কূটনৈতিক ভূমিকায় বেশ সক্রিয় দিল্লি।
নেসেটের ভাষণে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর প্যালেস্টাইনি জঙ্গিগোষ্ঠী হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা করেন মোদী। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদী হামলায় যাঁরা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি ভারতের গভীর সমবেদনা রয়েছে।”
এই প্রসঙ্গে মোদা টেনে আনেন ২০০৮ সালের মুম্বইয়ের ২৬/১১ সন্ত্রাসের স্মৃতি। দক্ষিণ মুম্বইয়ের নারিম্যান হাউসে হামলা চালিয়ে ছয় ইজ়রায়েলি ইহুদিকে হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারত ও ইজ়রায়েলের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হলেও চ্যালেঞ্জ এক। আর সেই কারণেই শান্তি ও নিরাপত্তা—দুই ইস্যুতেই কৌশলগত সমন্বয়ে আগ্রহী দিল্লি-জেরুজালেম দুপক্ষই।