বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ৯১৫ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৭ মাসের শাসনকালে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, তীব্র ভারত বিরোধিতা অতীত। তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে ঢাকা। এর মধ্যেই পালটা বন্ধুত্বের বার্তা দিল নয়াদিল্লি। পদ্মাপাড়ের রেল পরিষেবা উন্নয়নে বাংলাদেশের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াল ভারত। দ্রুতই বাংলাদেশি রেলওয়ের জন্য ২০০ কোচ পাঠাতে চলেছে দিল্লি। এই সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে চালু হচ্ছে নতুন ৩টি রেল রুট।
অগাস্টের শুরু থেকেই সম্ভবত কোচ পাঠানো শুরু করবে ভারত। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ৯১৫ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সব কোচ বাংলাদেশে রফতানি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নতুন কোচগুলি বাংলাদেশের পুরনো রেল কোচের সঙ্গে যুক্ত হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে কোচের ঘাটতি রয়েছে। ইতিমধ্যেই চার ধরনের কোচের নকশা অনুমোদিত হয়েছে এবং উৎপাদনের কাজ চলছে।
ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরি-তে আধুনিক LHB কোচ তৈরি হচ্ছে। ভারতীয় রেলের রফতানি সংস্থা রাইটস লিমিটেড প্রথম দফায় কোচ বাংলাদেশে পাঠাবে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কিছু সময়ের জন্য কোচ সরবরাহ বন্ধ ছিল। তবে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে সেই প্রক্রিয়া আবার শুরু হচ্ছে। এর আগে ভারত বাংলাদেশকে ১২০টি ব্রজগেজ LHB কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ কোচ সরবরাহ করেছিল।
RITES- এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাহুল মিথাল জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই ২০টি কোচের প্রথম রেক বাংলাদেশে পাঠানো হবে।
সূত্রের খবর, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী আন্তর্জাতিক ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছিল মৈত্রী এক্সপ্রেস দিয়ে। এটি ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল কলকাতা থেকে ঢাকার মধ্যে প্রথম চালু হয়, যা দীর্ঘ ৪৩ বছর পর দুই দেশের রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করেছিল। এরপর ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর কলকাতা-খুলনা রুটে যাত্রা শুরু করে বন্ধন এক্সপ্রেস। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৬ মার্চ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনের পর ২০২২ সালের ১ জুন বাণিজ্যিকভাবে চালু হয় মিতালী এক্সপ্রেস। এই ট্রেনটি নিউ জলপাইগুড়ি বা এনজেপি থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করত।
তবে ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগ ধাপে ধাপে বন্ধ হয়ে যায়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই মৈত্রী এক্সপ্রেস, ১৭ জুলাই বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ১৮ জুলাই মিতালী এক্সপ্রেসের চলাচল স্থগিত করা হয়। সেই থেকে বিগত প্রায় দুই বছর ধরে এই পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পর দেশে আটকে থাকা ভারতীয় রেলওয়ের কোচ ও ওয়াগনগুলো অলরেডি ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য টুরিস্ট ভিসা দেওয়া আবার শুরু করেছে ভারত। পাশাপাশি, জরুরি মেডিক্যাল ভিসা পরিষেবাও চালু রয়েছে।
বাংলাদেশে সরকার রেল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে আরও বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। ভবিষ্যতে আরও ২৬০টি ব্রডগেজ কোচ, ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ, ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটে পড়া বাংলাদেশকে ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করেছিল ভারত।