সিডনিতে ওডিআই জয়ের পর ‘বিরাট’ কথা

“খেলা তোমাকে প্রতি মুহূর্তে। কিছু না কিছু শিক্ষা দিয়েই যাবেই। যত চাপ বাড়ে, আমার সেরাটা ততই বেরিয়ে আসে”

রিয়া হালদার, সাংবাদিক: সিডনিতে এক দিনের সিরি‌জের শেষ ম্যাচ জিতে মুখরক্ষা করেছে ভারত। সেই জয়ে যে দুজন সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন, তাঁরা হলেন হিটম্যান তথা রোহিত শর্মা ও কিং কোহলি। প্রথম জন শতরান করেছেন, দ্বিতীয় জন অর্ধশতরান করেছেন। তবে দুবছর পর বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হলেন না কেউই। সব সময়ই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে পছন্দ করেন হিটম্যান। অস্ট্রেলিয়ার চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্ট করতে বরাবরই তাঁর ভালো লাগে। ভাবা যায় দীর্ঘ সাত মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে এসে ২৫ অক্টোবর শনিবারের সিডনিতে ম্যাচ সেরা রোহিত শর্মা। সঙ্গে সিরিজ সেরাও তিনি। সিরিডের সর্বোচ্চ স্কোরার। আর সেটা কোথায়, না অস্ট্রেলিয়ায়। খুবই রোমাঞ্চকর ভাবেই অস্ট্রেলিয়ার এই সফর শেষ হল। রোহিত শর্মা ১২১ রানে অপরাজিত থাকলেন। বিরাট কোহলি অপরাজিত থাকলেন ৭৪ রানে। রোহিত শর্মা খেলা শেষে বললেন,

“সিডনি বরাবরই আমাকে সুখস্মৃতি উপহার দিয়েছে
২০০৮ সালের স্মৃতি আমার এখনও মনে পড়ে
জানি না আমরা আর অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে আসব কি না ?

কিন্তু আমরা আমাদের ক্রিকেট আজও উপভোগ করি
অস্ট্রেলিয়ায় রান করা কখনওই সহজ হয় না
দীর্ঘদিন খেলেনি, এখানে খেলতে নেমে খুব ভাল লেগেছে
মানছি আমরা সিরিজ জিততে পারিনি
কিন্তু শেখার মতো অনেক কিছু পাওয়া গেল এই সিরিজ থেকে
এই টিমটা নতুন, সময়ের সঙ্গে শিখে যাবে সবই
আমি এখানে প্রথম বার আসার পর সিনিয়রেরা অনেক সাহায্য করেছে
এখন আমরা তরুণদের বিভিন্ন উপদেশ দিয়ে সাহায্য করতে চাই
কারণ বিদেশে ক্রিকেট খেলা মোটেই সোজা কাজ নয়
দলে যারা আছে তারা নিঃসন্দেহে অনেক প্রতিভাবান
তবে একটা পরিকল্পনা থাকা খুব দরকার
এই বয়সে এসে আমিও ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাই
সেগুলোই দলের তরুণদের বলব

আগের দুই ম্যাচে ফিরতে হয়েছিল শূন্য রানে কিং কোহলিকে। সেই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সিডনিতে আরও এক বার শূন্য করলে কিন্তু লজ্জার রেকর্ড হত। সেটা জানতেন কোহলি নিজেও। তাই প্রথম রান করে উল্লাস করতে দেখা গিয়েছিল কোহলিকে। বলাই যায় হাঁপ ছেড়ে বাঁচেছেন তিনি। খেলার ফাঁকেই কোহলিকেও দেখা যায়, রোহিতের দিকে তাকিয়ে ফিস্টপাম্প করতে। সেই ভিডিও ভাইরাল এখন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ৭৪ রান করে বিরাট কোহলি বলেন,

“একটা জিনিস বুঝলাম
যতই তুমি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট
খেলো না কেন, খেলা তোমাকে প্রতি মুহূর্তে
কিছু না কিছু শিক্ষা দিয়েই যাবেই
যত চাপ বাড়ে, আমার সেরাটা ততই বেরিয়ে আসে”

রো-কো জুটি যেন ফিরে এসে ফ্যানেদের মনে কিছুটা হলেও তৃপ্তি দিয়েছে। বলাই যায় ফ্যানেরা এই দৃশ্য দেখার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। তবে ফ্যানেদের একফোটাও নিরাশা করলেন না এই জুটি। রো-কো জুটি আমাদের দেখিয়ে দিল ব্যাটিং কঠিন নয়। সাত মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন দুজনেই। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন সাড়ে চার মাস। রো-কো প্রথম দুম্যাচে প্রত্যাশাপূরণ করতে পারেননি। তাতেই গেল গেল রব উঠে গিয়েছিল। তাঁদের ক্রিকেট ভবিষ্যতকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছিল অনিশ্চয়তার কানা গলিতে। নেটিজেনদের ট্রোলের মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁদের। অনেকেই বলছিলেন অনেক দিন খেলা থেকে দূরে থেকেই এই অবস্থা হয়েছে তাঁদের। প্র্যাকট্রিসের অভাব রয়েছে বলে অনেকেই বলছিলেন। তবে সময় তো কথা বলেই। ঠিক সময়ে ঠিক জবাব দিয়ে দিলেন তাঁরা দুজনেই। বোঝাই গেল ফিরে এসেও জেতা যায়। সিরিজ়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া দলকে চ্যাম্পিয়নের মতো মনে হল। চ্যাম্পিয়নই তো, এই সিরি‌জ়ের আগে ভারত শেষ বার এক দিনের ক্রিকেট খেলেছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। রোহিতের নেতৃত্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। বলাই বাহূল্য রো-কো জুটি গম্ভীর-শুভমনের দলের মানরক্ষা করল। তাঁরা নিজেদের স্থান কি রক্ষা করতে পারলেন? নভেম্বরে শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ফের খেলা। সিডনিতে রান পেয়ে কি ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের দলে নিজেদের জায়গা পাকা করে ফেললেন বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা? না এখনও সংশয় রয়েছে তা নিয়ে? রোহিত ও কোহলি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। কিন্তু সেই প্রশ্ন এড়ালেন না শুভমন গিল। জবাব দিলেন তিনি। গিল অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখনই বিশ্বকাপের কথা ভাবছেন না। তার আগে দুটি এক দিনের সিরিজ় রয়েছে। তার পরেই সিদ্ধান্ত নেবেন এই বিষয়ে। গম্ভীরের আগামী পরিকল্পনায় কি থাকবেন রো-কো জুটি? সেই প্রশ্ন আমাদের মনে থেকেই গেল।