বাংলাদেশ নিয়ে বিস্ফোরক ভারতীয় ক্রিকেটার চহাল

Bangladesh James attack: জেমসের অনুষ্ঠানে যে ভয়াবহ হামলা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা চলছে চারদিক। প্রশ্ন উঠছে ইউনুসের নৈরাজ্যের বাংলাদেশে কি তাহলে শিল্প সংস্কৃতির কোন দাম নেই?

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : কট্টরপন্থী ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই ফের অশান্ত বাংলাদেশ। ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে বাংলাদেশে নারকীয় ভাবে হত্যা করা হয়েছে সংখ্যালঘু যুবক দীপু দাসকে। ২৫ বছরের দীপুকে পিটিয়ে এবং পুড়িয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। আরও বহু জায়গায় সংখ্যালঘুদের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসবের মধ্যে ফের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওপারের হিন্দুরা। এই আবহে জেমসের অনুষ্ঠানে যে ভয়াবহ হামলা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা চলছে চারদিক। প্রশ্ন উঠছে ইউনুসের নৈরাজ্যের বাংলাদেশে কি তাহলে শিল্প সংস্কৃতির কোন দাম নেই? এর পর তো মানুষের মন খুলে কথা বলার স্বাধীনতাটুকুও থাকবে না। এই আবহে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন যুজবেন্দ্র চহাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় স্পিনার একটি ছবি দিয়েছেন। যেখানে একজনকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। চারপাশে আগুন জ্বলছে। অসংখ্য ছায়ামূর্তি তার দিকে আঙুল তাক করে দাঁড়িয়ে। পাশে ভাঙা দেব মূর্তি ও জ্বলন্ত মন্দির। সঙ্গে চাহাল লিখেছেন, ‘সব নজর এখন বাংলাদেশি হিন্দুদের দিকে। হিন্দুদের নিধন বন্ধ করো। বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য ন্যায়বিচার চাই। ছবির যে আবহ তা এখন আর কারোর অজানা নেই, ওপার বাংলার সংখ্যালঘু হিন্দু দীপু দাসকে তো এভাবেই নির্মম ভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল। আর তাই অনেকেই দীপুর মৃত্যুর ছবির সঙ্গে এই ছবির মিল খুঁজে পাচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে এই উত্তাল বাংলাদেশের আবহে ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে চহালই দীপুর হত্যাকাণ্ড কিংবা বাংলাদেশ নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন।

তবে এর আগে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলার শৌভিক চক্রবর্তী সোশাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশের হিন্দু পরিবারগুলিরও নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে। শুধু ধর্মাচরণ, স্বাধীনভাবে বাঁচা আর বাক স্বাধীনতার জন্য যাতে কাউকে ভয় পেতে না হয়। প্রতিবাদ করার সময় এসে গিয়েছে। চলুন সত্যিটা প্রকাশ্যে আনি। আর হিন্দুদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করি।’

যুজবেন্দ্র কিন্তু বাঙালি নন, হিন্দুদের আবেগের সঙ্গে তার দূর দূরান্ত অবধি কোন সম্পর্ক নেই কিন্তু তা সত্বেও এক অদেখা বন্ধুর জন্য তার মন কেমন করেছে তিনি উপলব্ধি করেছেন বাংলাদেশে যা হচ্ছে যা চলছে তা একেবারেই ঠিক নয় এর প্রতিবাদ দরকারভ তিনি প্রতিবাদ করেছেন কিন্তু যারা বাংলাদেশেরই তারকা? যারা বাংলাদেশের অভিনেতা অভিনেত্রী তারা কোথায়? নিজের দেশ যখন এমন এক অগ্নিগর্ভ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তখন তারা যেন মুখে কুলুপ এটে রয়েছেন। বাংলাদেশের বিখ্যাত অভিনেত্রী জয়া এহসান, এপার ওপার দুই বাংলাতেই তার অবাধ যাতায়াত চুটিয়ে কাজ করেন তিনি, তিনিও তো কার্যত চুপই। যেটুকু লিখেছেন তাকে কি প্রতিবাদ বলে? নাকি ইউনুসের ঠিক বা ভুলকে স্পষ্ট ভাবে বলার ক্ষমতা নেই তার? ক্রিসমাসের শুভেচ্ছা জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটা ছবি শেয়ার করেছিলেন জয়া। না না বাংলাদেশের ছবি নয়, নিজের ছবি সান্টা ক্লজের ছবি! আর সেখানেই ক্যাপশনে শুভেচ্ছার মোড়কে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সেখানে উল্লেখ, ‘বড়দিনে শান্তি আসুক দেশে, সারা পৃথিবীতে।’

এযাবৎকাল দ্বেষের বাংলাদেশ নিয়ে কোনও শব্দ খরচ তিনি করেননি উল্লেখ্য চব্বিশ সালে বাংলাদেশে গণ অভ্যুত্থান কালেও চুপ ছিলেন অভিনেত্রী। আসুন একটু চোখ রাখি রফিয়াত রাশিদ মিথিলার সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোফাইলগুলোতে, নাহ তিনিও চুপ, অথচ এই বাংলাদেশই তার শিকড় আর সেই শিকড় যখন বিপন্ন মিথিলা তখন প্রতিবাদের ভাষা কি ভুলে গিয়েছেন?

চলতি বছরে মে মাসের দিকে মুক্তি পেয়েছিল রায়হান রাফী পরিচালিত নতুন ছবি ‘তাণ্ডব’-এর ঝলক। সেই ছবিতে শাকিব খানের সঙ্গে দেখা যায় জয়া এহসানকেও, এই ঝলক সামনে আসতেই সিনেমাটিকে ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়কটের ডাক উঠেছিল। অনেকেই বলেছিলেন সেই মুহূর্তে ভারত-বাংলাদেশের যা রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল তাতে ওই দেশের কোনও তারকারর ছবি দেখতে যাওয়া উচিত নয়। অনেকেই বলেছিলেন কলকাতার হলে এই ছবি মুক্তি না পেলে সবচেয়ে ভালো হয়। সেই শাকিব খানও এখন নীরব থাকাই শ্রেয় বলে মনে করেছেন আর তাই হয়ত ১৭ ডিসেম্বরের পর আর কোন পোস্ট তার নেই। এই কটা দিনে নিজের দেশ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য তিনি করেননি।

চুপ রয়েছেন বাংলাদেশের আরেক বিখ্যাত তারকা জিয়াউল ফারুক অপূর্বও। চলতি মাসেই বাবা হয়েছেন তিনি। সেই খবর স্বাভাবিক ভাবেই খুব আনন্দের কিন্তু তার পরের পোস্ট গুলো? দেখুন একবার, গত কয়েক দিন ধরে শুধু নিজের কাজের প্রোমোশন, দীপুর জন্য প্রতিবাদের বিষয়টা ছেড়েই দিলাম কিন্তু বাকি বাংলাদেশের অবস্থা নিয়ে তিনিও যেন দেখেও না দেখার ভান করছেন।

ঠিক কি কারনে তারা চুপ? শিল্পী হওয়ার দায় ভার নাকি ইউনুসের চোখরাঙানি? কাজ পাবেন না সেই ভয়? নাকি প্রতিবাদের দরকার নেই নিজের দেশকে নিয়ে তা জানা নেই আমাদের। কিন্তু এই মানুষগুলর একটা বড় সংখ্যক ফ্যান কিন্তু রয়েছে ভারতেই আর সেই অনুরাগীরা কিন্তু দেখতে পারছেন প্রিয় তারকাদের দেশ যখন এমন নৈরাজ্যের সম্মুখীন তখন তারা একেবারে চুপ? এটা কি সত্যিই মেনে নেওয়া যায়? এর পর ভারতের তরফে কি এই মানুষ গুলো আগের মত ভালোবাসা পাবেন ? তার উত্তর দেবে সময়।