
সূচনা পল্যে, নিজস্ব সংবাদদাতা: ভারতের ভবিষ্যৎ শক্তির দিশা কোথায়? সূর্যের আলো, মরুভূমির বালি আর তীব্র হাওয়া- গুজরাতের রান অফ কচ্ছে শুরু হয়েছে এক অভূতপূর্ব লড়াই। একদিকে মুকেশ অম্বানির রিলায়েন্স, অন্যদিকে গৌতম আদানির আদানি গ্রুপ। দুই শিল্পপতি, দুই সাম্রাজ্য, আর লক্ষ্য একটাই- ভারতের গ্রিন এনার্জি ট্রানজিশনের ‘সম্রাট’ হওয়া। বিশ্বের নজর এখন শুধু এক জায়গায়- “Reign of Kutch”- কচ্ছের সাম্রাজ্য কে দখল করবে?
গুজরাতের রান অফ কচ্ছ- যেখানে দিনের পর দিন সূর্য থাকে তীক্ষ্ণ, আর বাতাস অনবরত বইতে থাকে। ঠিক এই জায়গাতেই তৈরি হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বড় রিনিউয়েবল এনার্জি পার্ক। এখানেই মাঠে নেমেছে দুই কর্পোরেট দানব-Reliance Industries এবং Adani Group।
দুটো গ্রুপের হাতেই বিশাল জমির ভাণ্ডার আছে। সব মিলিয়ে- এটাই ভারতের নবযুগের জ্বালানি যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু। আদানি গ্রুপ ইতিমধ্যেই এখানে ৩০ গিগাওয়াট-এরও বেশি সোলার-উইন্ড হাইব্রিড পার্ক তৈরি করছে। অন্যদিকে রিলায়েন্স বিশাল আকারে প্রস্তুত করছে নতুন প্রজন্মের গিগাফ্যাক্টরি, ব্যাটারি, সোলার মডিউল আর গ্রিন হাইড্রোজেন হাব। মুকেশ অম্বানির লক্ষ্য শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়- তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রিন ইকোসিস্টেম তৈরি করছেন।
Reliance-এর মূল ফোকাস: Solar module manufacturing, Battery Gigafactories, Polysilicon production, Green hydrogen, Renewable energy generation।

রিলায়েন্স ঘোষণা করেছে- ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট সোলার ক্যাপাসিটি অর্জন করবে তারা।
রিলায়েন্সের পাওয়ার হাউস: কম সুদের ঋণ, Google, Meta-র মতো টেক জায়েন্টদের বিনিয়োগ, ‘Net Carbon Zero 2035’-এর স্পষ্ট লক্ষ্য ও দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার।
Ambani আসলে শুধু বিদ্যুৎ বিক্রি করতে চান না, তিনি চান- ভারতের রিনিউএবল সাপ্লাই চেনের প্রতিটি স্তরে আধিপত্য। যেমন- প্যানেল থেকে ব্যাটারি, হাইড্রোজেন থেকে পাওয়ার প্ল্যান্ট- সবটাই “Made by Reliance.
গৌতম আদানি এই রেসে প্রথম থেকেই সামনে। তার গ্রুপ ইতিমধ্যেই ভারতের সবচেয়ে বড় রিনিউএবল পাওয়ার প্রডিউসার।
আদানির মূল ফোকাস: Solar + Wind energy production, Power transmission networks
Massive land banks, Renewable energy sales via PPAs, খাভদায় একাই ৩০ GW ক্ষমতা
আদানির সবচেয়ে বড় শক্তি- তাদের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক, যেটা রিনিউএবল এনার্জির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে আদানি গ্রুপের কাছে রয়েছে প্রচুর প্রস্তুত ক্ষমতা- অর্থাৎ এখনই তারা বাজারে বিশাল পরিমাণে বিদ্যুৎ দিতে পারে।
আদানির বিশেষ সুবিধা: First mover advantage, বিদ্যমান বিশাল Renewable capacity, দীর্ঘমেয়াদি পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (PPA), Global renewable investments।
সব মিলিয়ে- আদানি এখন ভারতের সবুজ শক্তির present kingpin.
The Core Competition: Who Wins What?
১. Scale vs Integration
Adani: Already largest producer
Ambani: Building the entire supply chain
২. Green Hydrogen
দুই গ্রুপই হাইড্রোজেন মার্কেটে বিশ্বে ‘নম্বর ওয়ান’ হতে চায়। খরচ কমিয়ে সস্তায় গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে নেতৃত্ব।
৩. ESG War
আদানি গ্রুপ এখনও coal-এর ইতিহাসের কারণে scrutiny-তে
রিলায়েন্স এই দিক থেকে সামনে ESG ফান্ড আকর্ষণকারীরাও ঠিক করবে কার কাছে যাবে আন্তর্জাতিক পুঁজি।
এই যুদ্ধ কোনও সাধারণ কর্পোরেট লড়াই নয়- এটা আসলে ভারতের ভবিষ্যৎ শক্তি স্বাধীনতার যুদ্ধ। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন, ব্যাটারি স্টোরেজ, গিগাফ্যাক্টরি বিপ্লব
সব মিলিয়ে এই লড়াই শুধু ভারত নয়, পুরো বিশ্ব এনার্জি মার্কেটের চেহারা বদলে দিতে পারে। Bernstein এটাকে নাম দিয়েছে- “Reign of Kutch”- কচ্ছে রাজত্ব কার হাতে যাবে?
রান অফ কচ্ছে সূর্য ওঠে প্রতিদিন কিন্তু এবার সেই আলোয় ঝলসে উঠছে ভারতের দুই বৃহত্তম ব্যবসায়িক শক্তিমত্তার দ্বন্দ্ব। সবুজ ভবিষ্যতের এই দৌড়ে শেষ পর্যন্ত কে নেতৃত্ব দেবে- তা সময়ই বলবে। তবে একটা কথা নিশ্চিত- অম্বানি বনাম আদানি যুদ্ধ বদলে দেবে ভারতীয় শক্তির ভবিষ্যতের মানচিত্র।