অর্থনৈতিক বিনিয়োগের পরিবেশ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

২০২৬ সাল : ভারতের অভ্যন্তরীণ নমনীয়তা বনাম বিশ্বব্যাপী প্রতিকূলতা

আর প্লাস ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সালে প্রবেশ করতেই বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিবেশ যেন আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। যার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মতো প্রধান অর্থনীতির জন্য মাঝারি আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস মিলেছে। তবে ভারত বিশ্বের দ্রুততম দ্রুততম এগিয়ে যাওয়া প্রধান অর্থনীতি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যেখানে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, শক্তিশালী মূলধন ব্যয় এবং উচ্চ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, নিম্ন মুদ্রাস্ফীতির দাবি উঠছে। বর্তমানে শেয়ারবাজারে সহজে লাভ নেই বললেই চলে। বরং অনেক বেশি নির্বাচন করে সুশৃঙ্খল স্টক বাছাইয়ে লাভ মিলতে পারে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিট বিক্রেতা হলেও, দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারের নমনীয়তার উপরে ভিত্তি করে ভারসাম্য বজায় রেখেছে। বিভিন্ন ব্রোকারেজরা আশা করছে, বছর শেষে নিফটি ২৮,৫০০ থেকে ৩২০০০-এর মধ্যে পৌঁছবে। যার অর্থ বছরের শুরু থেকে সম্ভাব্য রিটার্ন ১০-২৫ শতাংশ।

২০২৬ সালের জন্য ভারতীয় শেয়ার বাজারে কীভাবে এবং কী বিনিয়োগ করবেন তা এখানে দেওয়া হল-

২৩ জানুয়ারি (সকাল ১০.২৫)

নিফটি- 50

সেনসেক্স – ১ জানুয়ারি- ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬

1D

5D

1M

6M

YTD

1Y

5Y

Max

Chart Summary

Asset Name       Asset Price          Price Delta          Percent Delta

NIFTY 50

25,261.95 -884.6  

3.38%

BSE SENSEX

82,162.26 -3,026.34

3.55%

২০২৬-এ কোন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করবেন ?

পরিকাঠামো ও মূলধনী পণ্য: রাস্তা, বন্দর, রেলপথ এবং নগর উন্নয়নে সরকারের অব্যাহত, বিশাল মূলধনী ব্যয়- এই খাতের জন্য বহু-বছরের আয় প্রদান করতে পারে। “আত্মনির্ভর ভারত” উদ্যোগটি দেশীয় উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের চাহিদাও বৃদ্ধি করে।

ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক পরিষেবা (BFSI): এটি একটি মূল অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করে। যা ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি, উন্নত সম্পদের মান এবং ক্রমবর্ধমান বিমার সুবিধা গ্রহণ করে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়। ২০২৫ সালের শেষের দিকে RBI কর্তৃক কম সুদের হার ঋণ বৃদ্ধিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ও ক্লিন টেক: ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট অ-জীবাশ্ম জ্বালানি ক্ষমতার জন্য ভারতের লক্ষ্য সৌরশক্তি, বায়ু। ফলে  সবুজ হাইড্রোজেন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনের মতো পরিকাঠামোতে ব্যাপক বিনিয়োগের আশা রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ESG ফোকাস তীব্র হওয়ার সাথে সাথে এই খাতে উল্লেখযোগ্য মূলধন আসতে চলেছে।

আইটি ও ডিজিটাল পরিষেবা: ঐতিহ্যবাহী পরিষেবার বাইরে, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা এবং এআই পরিকাঠামো নির্মাণের সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ভারতে ১৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত এআই পরিকাঠামো বিনিয়োগ হতে প্রস্তুত। যা বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি জায়ান্টদের দ্বারা পরিচালিত হবে।

ভোগ ও এফএমসিজি: ভালো বর্ষা এবং সরকারি আর্থিক সুবিধা পেলে গ্রামীণ চাহিদা পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।  ভোক্তামুখী খাতগুলিতে সম্ভাব্য পুনরুদ্ধার হতে পারে।

মূল্যবান ধাতু: বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার যুগে, সোনা ও রূপোর গুরুত্বপূর্ণ হেজ হিসেবে কাজ করে। শক্তিশালী বিনিয়োগ চাহিদা এবং সরবরাহ ঘাটতি ২০২৬ সালে সোনার দামকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

কীভাবে বিনিয়োগ করবেন ?

কেবলমাত্র বিস্তৃত বাজারের গতিবিধির উপর নির্ভর না করে, শক্তিশালী মৌলিক বিষয় এবং শক্তিশালী কার্যকরী ক্ষমতাসম্পন্ন উচ্চমানের কোম্পানিগুলিকে চিহ্নিতকরণের উপর মনোনিবেশ করুন।

লার্জ-ক্যাপের দিকে ঝুঁকতে হবে: বর্তমান মূল্যায়ন থেকে বোঝা যায় যে লার্জ-ক্যাপ স্টকগুলি মিড-ও স্মল-ক্যাপের তুলনায় বেশি যুক্তিসঙ্গত মূল্যের। যা আগামীদিনে রিস্ক রিওয়ার্ড প্রদান করবে।

ইকুইটি, ঋণ এবং সোনার মধ্যে বৈচিত্র্য এবং সমতা রেখে বিনিয়োগ করুন।  ফলে ঝুঁকি কমবে রিটার্ন বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়বে।

এসআইপি বৃদ্ধি: আয় বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ধারাবাহিকভাবে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (এসআইপি)দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ সৃষ্টির সম্ভাবনাকে বাড়াবে।

বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করুন: বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য নীতি, বিশেষ করে মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্তকরণ এবং সম্ভাব্য ইইউ ট্যারিফের উপর নজর রাখুন।  কারণ এই বাহ্যিক কারণগুলি রফতানি-ভিত্তিক খাতগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে।