ভারতের জ্বালানি কৌশল আরও শক্তিশালী হল — ৭ বছর পর ফিরছে ইরানি তেল।

শুভাশিস দাস, সাংবাদিক : মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত চিনা ট্যাঙ্কার পিং শুন (Ping Shun) প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভারতের গুজরাতের ভাদিনার বন্দরের দিকে যাচ্ছে। এমন এক সময়ে তেলের দাম যখন আকাশচুম্বী, ঠিক তখনই গুজরাতের বন্দরে নোঙর করতে চলছে চিনা ট্যাঙ্কার। ২০১৯ সালের পর ইরান থেকে ভারতের প্রথম বড় আমদানি এটি — প্রায় ৭ বছরের ব্যবধানে।
ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ নামে পরিচিত খার্গ আইল্যান্ড। ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের রফতানি এই দ্বীপ থেকেই হয়। ইরানের সবচেয়ে বড় তেলের ভাণ্ডার ছেড়ে ১.১২ লাখ টনের জলদানব বেরিয়ে পড়েছে ভারতের উদ্দেশে। খার্গ আইল্যান্ডই আবার ইরানে মার্কিনি স্থল অভিযানের সম্ভাব্য টার্গেট হিসেবে দেখা হয়েছে। ট্যাঙ্কারটি খার্গ আইল্যান্ড থেকে মার্চের শুরুতে তেল লোড করেছে এবং ৪ এপ্রিলের মধ্যে ভাদিনারে পৌঁছনোর সম্ভাবনা।

কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- মার্কিন প্রশাসন অস্থায়ীভাবে ৩০ দিনের স্যাংশন উইন্ডো খুলে দিয়েছে, যাতে “on the water” থাকা ইরানি তেল সরবরাহ করা যায়।
- এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত ছাড়কৃত দামে তেল কিনছে।
- বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল জাহাজে মজুত রয়েছে, যার মধ্যে ভারতের জন্য সম্ভাব্য ৫১ মিলিয়ন ব্যারেল।
ভারতের বহুমুখী জ্বালানি কৌশল
ভারত এখন একটি দেশের উপর নির্ভর না করে জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্যকরণ করছে:
- রাশিয়া — বর্তমানে সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী
- ভেনেজুয়েলা — নতুন করে আমদানি বাড়ানো হচ্ছে
- ইরান — স্যাংশন উইন্ডোতে ফিরে আসছে
এছাড়া ব্রাজিলের সঙ্গেও জ্বালানি নিয়ে বড় চুক্তির আলোচনা চলছে। এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দিচ্ছে যে, হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা ও বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তাকে সবার আগে রাখছে। রুপিতে লেনদেন, সমুদ্রে চলন্ত জাহাজ থেকে সরাসরি ক্রয় এবং স্যাংশনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত বাজারকে নিজের অনুকূলে রাখছে। দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং শিল্প-বাণিজ্যের সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য এই বহুমুখী কৌশল অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে।