যুদ্ধের কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ভারত এখন বিকল্প উৎস খুঁজছে।
রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়িয়েছে ভারত।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬ সালের মার্চ মাসের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান-ইজরায়েল তথা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। এই সংকটে ভারতের ভূমিকা এবং গৃহীত পদক্ষেপগুলো হল:-
১. জ্বালানি আমদানির উৎস পরিবর্তন (Diversification)
ভারত তার তেল ও গ্যাসের চাহিদার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করে। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ভারত এখন বিকল্প উৎস খুঁজছে:
রাশিয়া ও আমেরিকা: ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) সরবরাহের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন চুক্তি করেছে।
অন্যান্য অঞ্চল: পশ্চিম আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো (যেমন ব্রাজিল ও গায়ানা) থেকেও তেল আমদানির চেষ্টা চলছে।
২. কৌশলগত তেলের মজুদ (Strategic Petroleum Reserves)
ভারতের কাছে বর্তমানে প্রায় ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম মজুদ রয়েছে, যা আপদকালীন সময়ে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে। সরকার এই মজুদের পরিমাণ আরও ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যাতে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা করা যায়।
৩. হরমুজ প্রণালী ও কূটনৈতিক তৎপরতা
বিশ্বের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৬০% আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যা বর্তমানে যুদ্ধের কারণে কার্যত অবরুদ্ধ। ভারত সরকার কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই পথটি সচল রাখার চেষ্টা করছে:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইরান ও ইসরায়েল—উভয় পক্ষের সাথেই আলোচনা করেছেন যাতে ভারতীয় জাহাজগুলো নিরাপদ যাতায়াত করতে পারে।
ইতিমধ্যেই কিছু ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার ইরানের বিশেষ অনুমতিতে এই প্রণালী পার হতে সক্ষম হয়েছে।

৪. অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প ব্যবস্থা
দেশে জ্বালানির হাহাকার রুখতে সরকার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে:
প্রয়োজনীয় পণ্য আইন (Essential Commodities Act): এই আইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলপিজি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক ব্যবহারের বদলে রান্নার গ্যাস বা গৃহস্থালির কাজে সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
কালোবাজারি রোধ: মজুতদারি রুখতে দেশজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং হাজার হাজার অবৈধ সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে।
উৎপাদন বৃদ্ধি: দেশের রিফাইনারিগুলোতে এলপিজি উৎপাদন প্রায় ৩৮-৪০% বৃদ্ধি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫. প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ
এত কিছুর পরেও আমজনতার জীবনে এর প্রভাব পড়ছে:
বিমানের জ্বালানির দাম বাড়ায় টিকিটের ওপর অতিরিক্ত ‘ফুয়েল চার্জ’ বসানো হচ্ছে।
গ্যাসের সংকটের কারণে অনেক রেস্তোরাঁ তাদের মেনু সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন যে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সার (Fertilizer) এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়তে পারে।