বিশ্বজিত মণ্ডল, নিজস্ব সংবাদদাতা: আদিবাসীদের উন্নয়নের নামে নির্মম অত্যাচার চলছে আদিবাসীদের উপর। এই অত্যাচারের অভিযোগ এর আগেও বারবার উঠেছে। এবার আদিবাসী সাংসদের ওপর হামলার ঘটনায় জোট বাঁধতে চলেছে আদিবাসী সমাজ ও আদিবাসী বিভিন্ন সংগঠনগুলি। মালদা উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মুর ওপর প্রাণহানি হামলার ঘটনা। বিজেপির অভিযোগ, হামলা চালানোর সময় অভিযুক্তরা নিজেরাই স্বীকার করছেন তারা দিদির অনুগামী। তারপরেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ করেনি। আগামীদিনে প্রশাসন যদি সাংসদদের ওপর হামলার ঘটনার বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত না করে, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার না করে তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন চলবে গোটা রাজ্যজুড়ে। এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আদিবাসী সিঙ্গেল অভিযান ও ঝাড়খন্ড দিসম পার্টির নেতারা। শীঘ্রই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এসসি-এসটি অ্যাক্টের মাধ্যমে তদন্তের দাবি তুলছে আদিবাসী সমাজ। এই বিষয়ে পুরাতন মালদা ব্লকের শহিদপুরে আদিবাসী সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে।

আদিবাসী সিঙ্গেল অভিযান উত্তরবঙ্গের জোনাল সভাপতি মোহন হাঁসদা জানান, বিজেপি সাংসদ তথা আদিবাসী নেতা খগেন মুর্মুকে যেভাবে মারা হয়েছে, রক্ত ঝড়ানো হয়েছে এই ঘটনায় যারা দোষী তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। রাজ্যের দিকে দিকে আদিবাসী সমাজের মানুষের উপর অত্যাচার হচ্ছে। যা আর মেনে নেওয়া যায় না। আদিবাসীদের কোন উন্নয়ন করছে না রাজ্য সরকার। আজকে ঝাড়খন্ড দিশম পার্টি ও আদিবাসী সিঙ্গেল অভিযানের কর্মীদের নিয়ে আলোচনা করলাম। আদিবাসীদের অত্যাচার আর মেনে নেওয়া যাবে না প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তথা আদিবাসী নেতা জুয়েল মুর্মু জানান, আদিবাসী সিঙ্গেল অভিযান ও ঝাড়খন্ড দিশম পার্টি কর্মীরা যেভাবে সাংসদ খগেন মুর্মুর উপর হামলার প্রতিবাদ করেছেন তার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। আজকে আদিবাসীদের উপর এইভাবে অত্যাচার আর মেনে নেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকেও তৃণমূলের নেতা অখিল গিরি অপমান করতে ছাড়েননি l তৃণমূলের গুন্ডাগিরি আর মেনে নেওয়া যাবে না। আমরা তৃণমূলকে তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাবধান করতে চাই সাংসদ খগেন মুর্মুর উপর যারা হামলা চালিয়েছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে। যদি না হয় তাহলে আদিবাসীদেরা একত্রিত হয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামবে।