বহু মূল্য ইঞ্জেকশন আসছিল কলকাতায়, কিন্তু মাঝ রাস্তায় তা উধাও হয়ে গেল ! কোথায়, কিভাবে হলো এমন ঘটনা ?

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে কলকাতা আসার পথে চুরি হল একাধিক বহুমূল্য ইঞ্জেকশন! প্রস্তুতকারক সংস্থা নোভো নরডিস্ক নিজেরাই এই চুরির কথা স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, ঘুরপথে এসব ইঞ্জেকশন কালোবাজারে ঢুকছে না তো? তা নিয়ে চিন্তায় কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ডের আধিকারিকরা।

ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা নোভো নরডিস্ক জানিয়েছে, তাদের একাধিক ওষুধ চুরি হয়েছে ভিওয়ান্ডি হাব থেকে নাগপুর, রায়পুর, কটক এবং কলকাতা সহ একাধিক গন্তব্যে পাঠানোর পথে। চুরি যাওয়া চালানে রয়েছে ডিএনএ-অরিজিন ইনজেক্টেবলস, যেগুলি ২ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি পর্যন্ত কোল্ড চেইন বজায় রেখে সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। সংস্থার কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সঠিকভাবে সংরক্ষণ না হলে এই ওষুধের গুণগত মান নষ্ট হতে পারে এবং সেই ওষুধ রোগীকে দেওয়া হলে তা রোগীর স্বাস্থ্যের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

চুরি হওয়া ওষুধের মধ্যে রয়েছে ইনসুলিন ডিগলুডেক এবং ইনসুলিন অ্যাসপার্ট ফর্মুলেশন, যা বাজারে বিক্রি হয় রাইজোডেগ™ ফ্লেক্সটাচ®, ফিয়াসপ® পেনফিল® এবং ফিয়াসপ® ফ্লেক্সটাচ® নামে। এছাড়াও, চুরি যাওয়া চালানে একাধিক ধরনের সেমাগ্লুটাইড ইনজেকশন ছিল, যার মধ্যে ওয়েগোভি® ফ্লেক্সটাচ® ০.২৫ মি.গ্রা., ০.৫ মি.গ্রা. এবং ১ মি.গ্রা. ডোজ অন্তর্ভুক্ত।

কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, তাপমাত্রার ওঠানামায় অত্যন্ত সংবেদনশীল এই ইনজেকশনগুলি যদি বাজারে সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করে বিক্রি করা হয়, তবে তা রোগীদের গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং চুরি যাওয়া ওষুধ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
নোভো নরডিস্ক ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যকর্মী, ফার্মাসিস্ট এবং রোগীদের সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছে। সংস্থা জানিয়েছে, এই ওষুধ ব্যবহার করার আগে অবশ্যই এর সত্যতা এবং সংরক্ষণের শর্ত যাচাই করতে হবে।