“এদের মত লোক দলে থাকলে গোষ্ঠীদন্দ্বে শেষ হয়ে যাবে দল। আমি স্লো পাউডার মেখে রাজনীতি করি না। “
অনসূয়া দাস, সাংবাদিক : ভোটের মুখে চুঁচুড়ায় তৃণমূলের অন্দরেই জোর সংঘাত। একদিকে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যদিকে তৃণমূলের টিকিট না পাওয়া বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার। শুরু তীব্র বাগযুদ্ধ। ভোট যুদ্ধে চুঁচুড়ায় সামনে উঠে এল দলের অন্দরের চাপা অসন্তোষের ছবিটা।

২০২৪ -এ হুগলি লোকসভা কেন্দ্র থেকে ৫ লক্ষ ৭০ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫১ হাজার ৬৫৪ ভোটের ব্যবধানে বিজেপি-র লকেট চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে হুগলির সাংসদ হন রচনা। সেই লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেই চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্র। এখানে তৃণমূলের প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য। প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতে ময়দানে নামতে দেখা যায় সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেখানে চুচুড়ার তৃণমূলের বিধায়কের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে, তিনি অসিতের কর্মকাণ্ডকে হাস্যকর বলে দাবি করেন।
এবার আসা যাক, অসিত মজুমজার কী এমন বলেছিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে। যার পরিপ্রেক্ষিতে এমন বললেন রচনা।
অসিত বলেন, রবিবার চুঁচুড়ায় দেবাংশুর হয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন রচনা। আর তখন তারকা সাংসদকে একহাত নেন অসিত। তিনি বলেছেন কে রচনা, তিনদিনের যোগী। এদের মত লোক দলে থাকলে গোষ্ঠীদন্দ্বে শেষ হয়ে যাবে দল। তাঁর টিকিট না পাওয়ার জন্য রচনার হাত রয়েছে। তিনি আরও বলেছেন স্লো পাউডার মেখে রাজনীতি করেন না। রচনাকে চ্যালেঞ্জও ছুড়েছেন অসিত মজুমদার। দম থাকলে নির্দল হয়ে দাঁড়িয়ে জিতে দেখান রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এখানেই শেষ হয়নি অভিযোগের ঝুলি। এবার তো একেবারে প্রমাণ নিয়ে অভিযোগ জানাচ্ছেন অসিত মজুমদার।
ভোটের আগে যখন এই পরিস্থিতি চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে। তখন বলাই যায় অস্বস্তিতে দল সহ প্রার্থী নিজেই। তাই সাংসদ ও এমএলএ-র দ্বন্দ্বে নিজেই হাল ধরলেন দেবাংশু।
ভোটের মুখে প্রার্থীর হয়ে প্রচারে যাচ্ছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভালো সাড়াও পাচ্ছেন.. মানুষের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন তিনি। টিভিতে দেখা অভিনেত্রীকে সামনে দেখে আলিঙ্গন করছেন মহিলা।
ঐতিহাসিকভাবে এই আসনে ফরওয়ার্ড ব্লক সবচেয়ে সফল দল। যারা ১১ বার জয়লাভ করেছে। কংগ্রেস ৩ বার এখানে জিতেছে। বর্তমানে এই কেন্দ্রটি তৃণমূলের দখলে, অসিত মজুমদার ২০১১ সাল থেকে টানা ৩ বার জিতেছেন। ২০১১ সালে তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ৪৪ হাজার ৫৯২ । তা ২০১৬ সালে কমে হয় ২৯ হাজার ৬৮৪। ২০২১ সালে আরও কমে ১৮ হাজার ৪১৭-এ । ২০২৬-র ভোটের মুখে সেই বিধানসভা কেন্দ্রে সাংসদ ও বিদায়ী বিধায়কের কলহ। কতটা বিপাকে পড়বেন প্রার্থী দেবাংশু।