৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগে ১০ লক্ষ ফেরত! পোস্ট অফিসের দুর্দান্ত স্কিম

আপনার কাছে যদি ৫ লক্ষ টাকা থাকে, আর সেই টাকা শেয়ার বাজারে না খাটিয়ে নিরাপদ কোনও সরকারি সঞ্চয় প্রকল্পে রাখতে চান, তাহলে পোস্ট অফিসের একটি স্কিম আপনার নজর কাড়তে পারে। এই প্রকল্পের নাম কিষান বিকাশ পত্র সংক্ষেপে KVP। এই স্কিমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা রাখলে বিনিয়োগের অঙ্ক দ্বিগুণ হয়ে যায়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে মেয়াদ শেষে পাওয়া যেতে পারে ১০ লক্ষ টাকা। কিন্তু ঠিক কত দিন টাকা রাখতে হবে? সুদের হার কত? মাঝপথে টাকা তুলতে পারবেন কি? আর কর দেওয়ার পরে হাতে কত টাকা থাকবে?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

KVP প্রকল্পটি কী?
কিষান বিকাশ পত্র বা KVP হল ভারত সরকারের অধীন একটি ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প, যা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাওয়া যায়। এই প্রকল্পের মূল আকর্ষণ হল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিনিয়োগের টাকা দ্বিগুণ হওয়ার সুবিধা। বর্তমানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পে বার্ষিক সুদের হার ৭.৫ শতাংশ এবং টাকা দ্বিগুণ হতে সময় লাগে ৯ বছর ৭ মাস, অর্থাৎ ১১৫ মাস। তাহলে হিসাবটা কী দাঁড়াচ্ছে? ধরুন, আপনি এককালীন ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলেন। নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হলে সুদ-সহ সেই টাকা বেড়ে ১০ লক্ষ টাকা হবে। অর্থাৎ, মেয়াদ শেষে আপনার মোট প্রাপ্তি ৫ লক্ষ টাকা বেশি। তবে মনে রাখবেন, এই হিসাব নির্দিষ্ট সুদের হার ও প্রযোজ্য নিয়মের ভিত্তিতে। বিনিয়োগের আগে পোস্ট অফিস থেকে বর্তমান সুদের হার এবং মেয়াদ নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি।

কত টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন?
এবার প্রশ্ন, KVP-তে বিনিয়োগ করতে গেলে কত টাকা প্রয়োজন? এই প্রকল্পে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করা যায়। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তার বেশি অঙ্কও বিনিয়োগ করা সম্ভব। অর্থাৎ, আপনার কাছে ৫ লক্ষ টাকা থাকতেই হবে, এমন কোনও শর্ত নেই। সামর্থ্য অনুযায়ী বিনিয়োগের অঙ্ক বেছে নিতে পারেন। বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র, KYC এবং অর্থের উৎস সংক্রান্ত অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে জেনে নেওয়া ভালো।

টাকা কি পুরোপুরি নিরাপদ?
KVP-র অন্যতম বড় আকর্ষণ হল এটি সরকার-সমর্থিত সঞ্চয় প্রকল্প। তাই শেয়ার বাজারের মতো সরাসরি বাজারের ওঠানামার উপর এর রিটার্ন নির্ভর করে না। যাঁরা দীর্ঘমেয়াদে নির্দিষ্ট নিয়মে সঞ্চয় করতে চান এবং বাজারের ঝুঁকি নিতে চান না, তাঁদের কাছে এই প্রকল্প বিবেচনাযোগ্য হতে পারে। তবে নিরাপদ সরকারি সঞ্চয় প্রকল্প হলেও বিনিয়োগের আগে মেয়াদ, সুদের হার, কর এবং টাকা তোলার শর্ত বুঝে নেওয়া জরুরি। আর এখানেই রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কর দিতে হবে কি?
KVP-তে বিনিয়োগ করলে যে বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি, তা হল কর। এই প্রকল্পে বিনিয়োগের মূল অঙ্কের উপর সাধারণত আয়কর আইনের ৮০সি ধারায় ছাড় পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, বিনিয়োগ থেকে অর্জিত সুদও করযোগ্য। আপনার প্রযোজ্য আয়কর কাঠামো ও করের স্ল্যাব অনুযায়ী করের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে ৫ লক্ষ টাকা বেড়ে ১০ লক্ষ টাকা হলেও করের প্রভাব হিসাব করলে আপনার প্রকৃত লাভ কমে যেতে পারে। তাই শুধু টাকা দ্বিগুণ হওয়ার হিসাব দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। কর দেওয়ার পরে হাতে কত থাকবে, সেটাও হিসাব করা দরকার।

মাঝপথে টাকা তুলতে পারবেন?
এবার আসা যাক টাকা তোলার নিয়মে। KVP-তে বিনিয়োগ করলে ইচ্ছেমতো যে কোনও সময় টাকা তুলে নেওয়া যায় না। সাধারণভাবে নির্দিষ্ট সময়ের আগে টাকা তোলার উপর বিধিনিষেধ রয়েছে। প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী, ২ বছর ৬ মাসের আগে সাধারণ ক্ষেত্রে আগাম টাকা তোলার সুযোগ থাকে না। তবে মৃত্যু বা আদালতের নির্দেশের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। তাই আপনার যদি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাড়ি কেনা, পড়াশোনা বা অন্য কোনও বড় খরচের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে পুরো সঞ্চয় KVP-তে আটকে রাখার আগে ভাবুন। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য আলাদা অর্থ হাতে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

KVP, PPF না মিউচুয়াল ফান্ড?
এবার প্রশ্ন, KVP-ই কি সেরা বিকল্প? উত্তরটা নির্ভর করছে আপনার আর্থিক লক্ষ্য ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার উপর। PPF-ও একটি সরকারি সঞ্চয় প্রকল্প। এর সুদ ও করের সুবিধা আলাদা, তবে বিনিয়োগের মেয়াদ এবং বার্ষিক জমার সীমা রয়েছে। অন্যদিকে, ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ড দীর্ঘমেয়াদে বেশি রিটার্নের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেখানে বাজারের ঝুঁকি রয়েছে এবং বিনিয়োগের টাকা দ্বিগুণ হওয়ার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই নিশ্চিত মেয়াদ ও নির্ধারিত রিটার্নের জন্য KVP বিবেচনা করা যেতে পারে। আর অন্য বিকল্প বেছে নেওয়ার আগে নিজের লক্ষ্য, সময়সীমা এবং ঝুঁকি সহ্য করার ক্ষমতা বিচার করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, পোস্ট অফিসের KVP তাঁদের জন্য একটি বিবেচনাযোগ্য সঞ্চয় প্রকল্প, যাঁরা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের ঝুঁকি না নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে টাকা বাড়াতে চান। তবে ৫ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পাওয়ার হিসাবের পাশাপাশি কর, মেয়াদ এবং আগাম টাকা তোলার বিধিনিষেধও মাথায় রাখতে হবে। মনে রাখবেন, টাকা দ্বিগুণ হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য নয়- সেই টাকা কত দিন আটকে থাকবে এবং কর দেওয়ার পরে আপনার প্রকৃত লাভ কত হবে, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগের আগে পোস্ট অফিসের বর্তমান নিয়ম যাচাই করুন এবং নিজের আর্থিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন।