হামলার বদলা প্রত্যাঘাত, দুইপক্ষের হুঙ্কারে ক্রমশ বাড়ছে ইরান-ইজরায়েলের সংঘাত

মধ্যপ্রাচ্যে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। ইরান এবং ইজরায়েল একে অন্যের ওপর লাগাতার আঘাত হেনে যাচ্ছে। উত্তাপ কমার কোন লক্ষণ এখনও অবধি নেই। ইজরায়েলের বায়ুসেনা প্রধান জানিয়েছেন যে, ইরানে ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে ইজরায়েলের বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান। ভূমি থেকে আকাশে ছোড়া হয় যে ক্ষেপণাস্ত্র, তার পরিকাঠামোতেও আঘাত হেনেছে। বায়ুসেনা প্রধান আরও বলেন, ‘‘এই অভিযানের জাতীয় তাৎপর্য রয়েছে। আমরা শত্রুর কৌশলগত ঘাঁটিতে ক্ষতিসাধন করেছি। ক্ষতি করেই যাব।’’

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিকঃ ইজরায়েলের হামলার জবাব হিসাবে ইরানও ইজরায়েলের দিকে ছুঁড়েছে শতাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল। এর পালটা হিসাবে আবার ইজরায়েল কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তেহরান যদি হামলা চালানো অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান পুড়ে যাবে। এক বিবৃতিতে ইজরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, “ইরানের শাসক তাদের জনগণকে আটক করে রেখেছে। এর পরিণতিতে তেহরানের বাসিন্দাসহ গোটা ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে, কারণ তারা ইজরায়েলের নাগরিকদের ওপর সরাসরি হামলা চালাচ্ছে।”

শনিবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে ইজরায়েলের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জমির এবং মোসাদের ডিরেক্টর ডেভিড বার্নিয়ার সঙ্গে একটি বৈঠক করেন কাটজ। সেখানে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, “আয়াতোল্লা ইরানের নাগরিকদের বন্দি করে রেখেছেন। ইজরায়েলের নাগরিকদের উপর এই ধরনের জঙ্গি হামলা চালালে ফল খুব খাপার হবে। তেহরানকে আমরা জ্বালিয়ে দেব।” শুক্রবার ইজরায়েলি হামলার পর প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। শনিবার তারা আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সকেও হুমকি দিয়ে বলেছে, ইজরায়েলকে সাহায্য করলে তাদের সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা হবে। রবিবার ওমানে আমেরিকার সঙ্গে যে বৈঠক হওয়ার কথা, তাতেও না বলে দিয়েছে ইরান।

ইরানি সেনার ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস’-এর নতুন কমান্ডার জেনারেল আহমেদ ভাহিদি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যত ক্ষণ প্রয়োজন তত ক্ষণ ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৩’ জারি থাকবে। ইরানি সামরিকবাহিনীরাও জানিয়েছে, স্বল্প জবাবের মধ্যে এই সংঘর্ষ থেমে থাকবে না। ইরানের হামলা অব্যাহত থাকবে এবং ইরানি বাহিনীর এই জবাব হামলাকারীদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক হবে।ইরানের দাবি গত ২৪ ঘণ্টায় তিনটি ইজ়রায়েলি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার পশ্চিম ইরানের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ইজরায়েলি এক পাইলটকে আটক করা হয়েছে। বাকি দু’টি বিমানের পাইলটদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যেই নিহত হয়েছেন। অন্যজনও ইরানি বাহিনীর হাতে বন্দি বলে মনে করা হচ্ছে।