তৃণমূল ছেড়ে আরাবুল ইসলাম হুমায়ুন কবীরের দলে যোগ দিচ্ছেন আরাবুল ? কী বলছেন আরাবুল ইসলাম?

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : নওশাদকে ভাঙড়ে হারানোর হাতিয়ার কি আরাবুল ইসলাম। জেইউপি ও আইএসএফের জোট যদি না হয় তাহলে কি নওশাদকে হারানোর প্ল্যান রেডি করে ফেলেছেন হুমায়ুন কবীর। তাই কি আগেভাগে হুমকি দিতেই ভাঙড় হাতছাড়া করার হুঁশিয়ারি। তারমানে কি তলে তলে আরাবুল ইসলাম ও হুমায়ুন জুটি তৈরি হচ্ছে। হাওয়াতে তো সেই খবরই ভাসছে। আরাবুল ইসলাম নাকি তৃণমূল ছাড়ছেন।
তার মানে কি হুমায়ুন কবীরের নেক্সট টার্গেট ভাঙড়ের সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম? আরাবুল নিয়ে জল্পনায় হাওয়া দিয়েছেন হুমায়ুন কবীরই। তিনি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর সঙ্গে আরাবুল ইসলামের বারবার কথা ও সাক্ষাত হওয়ার কথা বলেছেন। যা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। বাংলার রাজনীতিতে যিনি তাজা নেতা হিসাবেই পরিচিত আরাবুল ইসলাম। সাসপেন্ডেড থাকলেও রাজনীতিতে বরাবরই প্রাসঙ্গিক। ২০০৬ সালে বিধানসভায় তৃণমূলের ৩০ জন বিধায়ক ছিলেন তার মধ্যে আরাবুল একজন দঃ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড় আসন থেকে সিপিএম প্রার্থী মোশারফ হোসেন লস্করকে সাড়ে চারহাজার ভোটে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালে তৃণমূলের গোঁজ প্রার্থী নান্নু হোসেন বিদ্রোহী হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ায় পরিবর্তনের হাওয়াতেও তিন হাজার ভোটে সিপিএম প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। এরপর আদিগঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। তৃণমূলের সোনার ছেলে ক্রমশ গুরুত্ব হারিয়েছে দলের অন্দরে। এরমাঝে দুবার দীর্ঘ কারাবাস এই দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দল থেকে দুবার সাসপেন্ডও হয়েছেন তিনি। এরইমাঝে ভাঙড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন বিধায়ক শওকত মোল্লা। আরাবুল বনাম শওকত মোল্লার দ্বন্দ্ব এখন সর্বজনবিদিত।
শওকত মোল্লার কারণেই কোনঠাসা অবস্থান আরাবুলের। ২৬ শের ভোটের আগে আরাবুলের উপর থেকে সাসপেনশন আদৌ কি উঠবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এমনিতেই ভাঙড়ে তৃণমূলের ভরসার নাম শওকত মোল্লা। তাই আরাবুল ইসলাম ট্রাম্প কার্ড হতেই পারেন হুমায়ুন কবীরের কাছে। যদিও এই নিয়ে অনেক সমীকরণ রয়েছে। ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় থেকে জয়ী হয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। ২০০৬ সালে ভাঙড় তৃণমূলের দখলে ছিল। ২০১১ তে জয়ী হয় সিপিএম। আবার ২০১৬ তে তৃণমূলের হয়ে জেতেন আব্দুর রজ্জাক মোল্লা। ২০২১ এ ভাঙড়ে বদলে যায় রাজনীতির সমীকরণ। জয়ী হয় আইএসএফ। অতএব ভাঙড় এমন একটি কেন্দ্র যেখানে পাশার চাল বদলাতে সময় লাগে না। তাই নওশাদের সঙ্গে যদি হুমায়ুন কবীর জোট করেন তাহলে আরাবুল ইসলাম কোনও ইস্যু হবেন না। আর যদি জোট না হয় তাহলে আরাবুল ইসলাম হতেই পারেন হুমায়ুনের ট্রাম্প কার্ড। আর হুমায়ুন কবীরের দলে যোগ দিলে আরাবুল ইসলামের লাভ বই ক্ষতি হবে না। তারকারণ এমনিতেই তো তিনি তৃণমূলে থেকেও না থাকার মতোই রয়েছেন। দিন দিন যেন প্রচারের আলো থেকে সরে যাচ্ছেন। তাই ক্ষমতার অলিন্দে ফিরতে গেলে নতুন কিছু করে দেখাতে হবে আরাবুল ইসলামকে। তার কারণ এমনিতেই তার শূন্যস্থান পূরণ করতে ভাঙড়ে রয়েছেন তো শওকত মোল্লা, কাইজাররা। তবে এ তো শুধু জল্পনা। আরাবুল ইসলাম জল্পনা জিইয়ে রাখলেন।
ফোনো আরাবুল
এদিকে ভাঙড় দখল চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছে তৃণমূলও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভাঙড় দখলের ডাক দিয়েছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ৩১ টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের ঝুলিতে এসেছিল ৩০ টি। ভাঙড় আসন দখল করে আইএসএফ। বারুইপুরের সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩১ এ ৩১ করার ডাক দিয়ে রেখেছন। এখন দেখার ভাঙড়ের সমীকরণ কী হতে চলেছে।