ছত্রাক হলো জীবন্ত প্রানী যা বাতাসে উড়ে বেড়ায়। পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ ছত্রাক আছে। তার মধ্যে খুব কম সংখ্যকই মানুষের মধ্যে রোগ সৃষ্টি করে। কিছু আমাদের শরীরে প্রাকৃতিক ভাবে বাস করে তবে যখন মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে যায় এই ছত্রাকের সংখ্যা তখনই সমস্যা বাড়ে।

মৌসুমী সাহা, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে ত্বকে, চুলে, নখে সবচেয়ে বেশী। এমনকি শরীরের শুধু মাত্র বাইরের অংশে নয় শরীরের অভ্যন্তরে যেমন ফুসফুস, মস্তিষ্ক , চোখ অন্ত্রে দেখা যার ইনফেকশন। চিকিৎসকেরা বলেন দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণেই শরীরে ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটে। ডায়াবেটিস থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। ছত্রাকের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে যাদের এইডস, ক্যান্সার রোগ রয়েছে। এমনকি ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট ঔষুধ ব্যবহার কারীদেরও ঝুঁকি থাকে সংক্রমণ। কিছু কিছু ছত্রাক মানুষের হাড়, ত্বক এবং ফুসফুসকে সংক্রমিত করে মস্তিষ্ক এবং মেরুদন্ডকেও সংক্রমিত করতে পারে।

মস্তিষ্কে ছত্রাকের সংক্রমণ হলে মাথাব্যাথা, জ্বর, ঘাড়ে ব্যাথা, বমি, এমনকি বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা যায়। চোখের সংক্রমণে ঝাপসা দৃষ্টি, ব্যাথা, লালভাব দেখা দেয়। অন্ত্রের সংক্রমণ এর ফলে পেঠে ব্যথা, বমি বমি ভাব লক্ষ করা যায়। এছাড়াও দেখা যায় সাইনাসের সংক্রমণ যার ফলে জ্বর, নাক বন্ধ, মাথা ব্যাথা, মুখ ফুলে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। ত্বকের ইনফেকশনের কারণে চুলকানি, লাল হয়ে যাওয়া দেখা যায়।

বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়েই সারিয়ে ফেলা যায় সংক্রমণ যাতে শুধু মাত্র বাইরের নয় ভেতরের সংক্রমণও দুর করতে সাহায্য করে। তবে প্রতিরোধ করা সম্ভব এই ধরনের সংক্রমণ। শরীরের কোন অংশ ভেজা থাকতে দেবেন না, পাবলিক বাথরুম এ খালি পায়ে হাঁটবেন না। দাঁত ও মুখের যত্ন নিতে হবে। নখ ছোট ও পরিস্কার রাখতে হবে। খুব বেশি অ্যান্টিবায়োটিক না ব্যবহার করাই শ্রেয়। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। একই জিনিস বহু মানুষের না ব্যবহার করাই ভালো।