“মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই ইসকনে আসার ইচ্ছা ছিল। রাধামাধবের দর্শন, গোমাতার সেবা এবং মহাপ্রভু চৈতন্যদেবকে স্মরণ করার সুপ্ত ইচ্ছা পূরণ হল আজ।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম বার ইসকনে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানে গিয়ে গোমাতার পুজো, গো-সেবা থেকে শুরু করে রাধামাধবের আরতিতে অংশগ্রহণ। সব মিলিয়ে দিনভর তাঁর সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বললেও ভুল হবে না।
বৃহস্পতিবার সকালে হাওড়ার ডুমুরজলা থেকে হেলিকপ্টারে করে মায়াপুর পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সকাল ১১টা নাগাদ তাঁর হেলিকপ্টার নামে ইসকনের হেলিপ্যাডে। মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তখন থেকেই কীর্তনের সুরে মুখর মন্দির চত্বর। নিরাপত্তাও ছিল আঁটোসাঁটো। ইসকনের তরফে বিশেষ অভ্যর্থনা জানানো হয় শুভেন্দুকে।
মায়াপুর পৌঁছেই প্রথমে ইসকনের গোশালায় যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে সাধুসন্তদের উপস্থিতিতে গোমাতার বিশেষ পুজোয় অংশ নেন তিনি। নিজ হাতে গোমাতার পা ধুইয়ে, তাকে খাইয়ে দেন। পরে অংশ নেন গো-সেবা ও হোমযজ্ঞে। এরপর তিনি যান মূল চন্দ্রোদয় মন্দিরে। সেখানে রাধামাধবের দর্শন করে বিশেষ পুজো ও আরতিতেও যোগ দেন। আরতি শেষে বিগ্রহের সামনে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতেও দেখা যায় তাঁকে।
এর পর ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের মন্দিরেও যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেও পুজো দেন এবং প্রণাম করেন। মন্দির চত্বরে উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেন তিনি।
ইসকনের মুখপাত্র রসিক গৌরাঙ্গ দাস বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম বার শুভেন্দু অধিকারী ইসকনে এলেন। উনি গোপীজন গো-সেবা ও যজ্ঞে অংশ নিয়েছেন। ইসকনের বিষয়ে ওঁর যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে।”
পরে শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই ইসকনে আসার ইচ্ছা ছিল। রাধামাধবের দর্শন, গোমাতার সেবা এবং মহাপ্রভু চৈতন্যদেবকে স্মরণ করার সুপ্ত ইচ্ছা পূরণ হল আজ।” তিনি আরও জানান, গীতার বাণী গ্রহণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রার্থনাই করেছেন তিনি। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের “হৃত গৌরব” ফিরে আসুক বলেও প্রার্থনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সফরের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে রাজনৈতিক বার্তাও। কারণ, নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও মায়াপুর ইসকনে এসেছিলেন। সেই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে।