আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে জল্পনার আবহে উড়ে এল ইজ়রায়েলি হুমকি !

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : যুক্তরাষ্ট্র-ইজ়রায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সেই আবহেই এবার কড়া বার্তা দিল ইজ়রায়েল। তেল আভিভ স্পষ্ট জানিয়েছে, খামেনেইয়ের আসনে যাকেই বসানো হোক না কেন, ইরানের বর্তমান নীতিই অনুসরণ করে চললে, তাঁকেও নিশ্চিতভাবে নির্মূল করে ফেলা হবে।
ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ় (Israel Katz) বুধবার এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, “ইরানের সন্ত্রাসবাদী শাসন যে নেতাকেই নিযুক্ত করুক না কেন, যদি তিনি ইজ়রায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা চালিয়ে যান, আমেরিকা ও স্বাধীন বিশ্বকে হুমকি দিতে থাকেন এবং ইরানের জনগণকে দমন করেন, তাহলে তাঁকেও নিঃসন্দেহে নির্মূল করে ফেলা হবে।”
ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ় আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তিনি যৌথভাবে ইজ়রায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (IDF) ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন।

খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি হিসাবে পুত্র মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei)-এর নাম সামনে আসছে। এই মোক্ষম সময়ে উড়ে এল ইজ়রায়েলের হুমকি। ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যম এবং ইরানের বিরোধী শিবিরের সূত্র দাবি করেছে, ক্ষমতাশালী ধর্মগুরুদের একটি অংশ ইতিমধ্যেই মোজতাবাকে বেছে নিয়েছেন। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
গত শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত হন খামেনেই (Khamenei) এবং ইরানের প্রায় ৪০ জন শীর্ষ কর্তা। নিহতদের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী, গোয়েন্দা প্রধান এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের শীর্ষ উপদেষ্টারাও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই অভিযানকে ইজ়রায়েল ‘অপারেশন লায়ন রোর’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ হিসেবে নামকরণ করেছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাট্জ জানিয়েছেন, “আমরা আমাদের আমেরিকান অংশীদারদের সঙ্গে পূর্ণ শক্তিতে অভিযান চালিয়ে যাব। শাসনের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা ভেঙে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই, যাতে ইরানের জনগণ নিজেরাই এই শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে পারেন।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তেহরানের ক্ষমতার কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে তেল আভিভ।
মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ইরানের পরবর্তী নেতৃত্ব কি আরও কঠোর অবস্থান নেবে? নাকি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নরম সুরে কথা বলবে ? মোজতাবা খামেনেই দীর্ঘদিন ধরেই পর্দার আড়ালে প্রভাবশালী বলে পরিচিত ইরানের রাজনৈতিক মহলে। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নির্বাচিত পদে ছিলেন না। ফলে তাঁর নেতৃত্বে ইরানের নীতি কতটা বদলাবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইজ়রায়েলের এই প্রকাশ্য হুমকি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। একদিকে উত্তরসূরি নির্বাচন, অন্যদিকে বহির্বিশ্বের সামরিক চাপ—এই দুইয়ের টানাপড়েনে ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।