পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিলো নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি প্রেস রিলিজ দিয়ে একথা জানানো হয়েছে।

সঞ্জু সুর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- গত সোমবার রাতে হঠাৎ করেই উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন জগদীপ ধনখড়। মেয়াদ শেষের প্রায় বছর দুয়েক আগে অকস্মাৎ এইভাবে উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দিল্লির রাজনীতিতে। নিজের ইস্তফা পত্রে ইস্তফার কারণ হিসাবে শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন জগদীপ ধনখড়। কিন্তু বিরোধী রাজনীতির জগতের প্রায় কেউই জগদীপ ধনখড়ের দেওয়া এই কারণ মানতে চাইছেন না। তাঁরা মনে করছেন মোদী-শাহের বিরাগভাজন হওয়ার কারণেই চটজলদি মেয়াদ শেষের আগেই ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন জগদীপ ধনখড়। যদিও নজিরবিহীন এই ঘটনা নিয়ে বিজেপির বক্তব্য কেউ যদি সত্যিই অসুস্থ হয়ে ইস্তফা দেন, তাহলে সেটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এটা নিয়ে রাজনীতি করা উচিৎ নয়। যদিও রাজনীতি থেমে নেই।

ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জগদীপ ধনখড়ের ইস্তফা নিয়ে দু’লাইনের একটা পোষ্ট করেছেন এক্স হ্যান্ডেলে, যে পোষ্ট ও অনেকের চোখে কিঞ্চিৎ ‘করতে হয় বলে করা’ বলে মনে হয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জগদীপ ধনখড়ের ইস্তফা নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে রাজি না হয়েও শুধু এটুকু বলেছেন যে জগদীপ ধনখড় যথেষ্ট সুস্থ মানুষ বলেই তিনি মনে করেন। ফলে এই ইস্তফায় কিছু গড়বড় আছে বলেই তিনি মনে করছেন।

এদিকে উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে জগদীপ ধনখড়ের ইস্তফা নিয়ে দিল্লি তথা দেশের রাজনীতির জলঘোলা চলার মাঝেই সেই ঘোলা জলকে আরো একটু ঘুলিয়ে দিলো বুধবার প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের প্রেস রিলিজ। এদিনের প্রেস রিলিজ দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের আইন মেনে এবং এই সংক্রান্ত ১৯৭৪ সালের বিধি অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন উপরাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করছে। ইলেকটোরাল কলেজ গঠন, রিটার্নিং অফিসার বা সহকারি রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ সহ সব কাজ শুরু করা হলো। পাশাপাশি প্রেস রিলিজে এটাও জানানো হয়েছে যে নির্বাচনের (উপরাষ্ট্রপতি পদে) দিন সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরে ঘোষণা করা হবে।