জাহাঙ্গিরকে ছিনতাই !নেপথ্যে রোজিনা বিবি ?

স্বামীর ছায়ায় থেকে অপরাধ জগতে হাত পাকিয়েছেন রেজিনাও ? আর কোথায় কোথায় ঘাঁটি গেরেছিল এই দম্পতি ?

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : কর্তা গেছে শ্রীঘরে। এবার ফলতার জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রোজিনা বিবির নামে থানায় জমা পড়ল অভিযোগ। একেবারে যোগ্য সহধর্মিনী। বর পুলিশ হেফাজতে। লোকজন জোগাড় করে শেষে কিনা থানায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা। জাহাঙ্গির খানের স্ত্রীকে মদত দিচ্ছে কে? পুলিশের কাছ থেকে জাহাঙ্গিরকে ছিনতাইয়ের পিছনে আর কী বড় পরিকল্পনা কষেছিল পুষ্পার সহধর্মিনী রোজিনা। জাহাঙ্গির খানের খেলা শেষ হতেই পুরো ফলতা উৎসবের মেজাজে ছিল। সেই ফলতার এত মানুষকে কীভাবে একজোট করল জাহাঙ্গিরের স্ত্রী। তবে কি ফলতা থেকে জাহাঙ্গিরকে সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব হবে না। জাহাঙ্গিরের স্ত্রী এত সাহস পেল কীভাবে। তবে কি স্বামীর ছায়ায় থেকে অপরাধ জগতে হাত পাকিয়েছিলেন তিনি। এবার কি গ্রেফতার হতে হবে পুষ্পার স্ত্রীকে। তার হামলার নেপথ্যের গল্পটাই বা কি।

ফলতায় কীভাবে ত্রাস হয়ে উঠেছিল জাহাঙ্গির তা কারও অজানা নয়। কিন্তু বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ব্যাকফুটে জাহাঙ্গির। প্রথমে ভোটের লড়াই থেকে পিছু হঠা। হাওয়া বেগতিক দেখে ভোটের দিন এলাকা থেকে গা ঢাকা দেয় জাহাঙ্গির। বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে বেপাত্তা হয় সে। তবে ভোট দিতে দেখা গিয়েছিল তার স্ত্রীকে। পরের গল্প সবার জানা। জাহাঙ্গির খান গ্রেফতার হয়েছে নেপাল সীমান্ত থেকে। বাংলা থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে নেপালে বসবাস করার ছক কষেছিল সে। জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী ও সন্তান আগেভাগেই নেপালে ঘাঁটি গেড়েছিল। জাহাঙ্গিরের যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল তারা। কিন্তু পুলিশের নজরদারিতে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। জাহাঙ্গির গ্রেফতার হয়। তবে কি স্বামী গ্রেফতার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নেপাল থেকে ফলতায় চলে এসেছিল রোজিনা বিবি। না হলে এইরকমভাবে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা কীভাবে সাজাল সে। বেশ কয়েকদিন ধরেই জাহাঙ্গিরকে কোরমরে দড়ি বেঁধে ফলতায় খানা তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। মানুষের মনে পুষ্পার ভীতি কাটাতে কখনও তাকে হাফপ্যান্ট পড়ে ঘোরানো হচ্ছে ফলতার রাস্তায়। আবার কখনও কান ধরে মানুষের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করতে হচ্ছে জাহাঙ্গিরকে। যে পুষ্পা মাথা ঝোঁকাতে নারাজ ছিল তাকে এই অবস্থায় দেখে রোজিনার ভালো লাগেনি। তাই ক্ষমতা প্রয়োগ করে জাহাঙ্গিরকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ফন্দি আঁটে সে। কিন্তু স্বামীকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনতাই করতে গিয়ে এমন ল্যাজে গোবরে অবস্থা হবে তা কল্পনাও করতে পারেননি রোজিনা। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে কী অবস্থা হয়েছিল দেখুন একবার। যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আরপ্লাস নিউজ। যে ভাইরাল ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে সবাই যেন পালাতে পারলেই বাঁচে। রণেভঙ্গ দিয়ে কেউ রাস্তা দিয়ে দৌড়ালেন কেউ পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করলেন। আর এতেই চাপ বেড়েছে জাহাঙ্গিরের। এই হামলাকাণ্ডে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী-র নামে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। জাহাঙ্গিরকে ছাড়ানোর জন্য থানার কাছেপিঠে হামলাকাণ্ডে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে দুজন মহিলাও রয়েছে। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

জাহাঙ্গির কিন্তু বেশ বড় খিলাড়ি। নেপাল পর্যন্ত তার নেটওয়ার্ক। না হলে কি সন্তানকে নেপালে পড়ানোর কথা ভাবে সে। সামান্য দর্জি থেকে সে হয়ে উঠেছিল ফলতার ত্রাস। ঠিক যেমনটা সন্দেশখালির শাহজাহান তার সাম্রাজ্য সাজিয়েছিল সেইভাবেই জাহাঙ্গিরও ফলতাকে হাতের মুঠোয় করে নিয়েছিল। ২০২৬ এ প্রার্থী হওয়ার দরুন সামনে আসে তার সম্পদের বহর। জাহাঙ্গির খানের শিক্ষাগত যোগ্যতা দ্বাদশ শ্রেণী পাস ।তার পেশা হিসেবে ব্যবসা ও সমাজকর্মী উল্লেখ করেছে নির্বাচনী হলফনামায়। জাহাঙ্গির খানের মোট সম্পদ ২ কোটি টাকার বেশি । কোনও দেনা নেই তার। জাহাঙ্গির খান তাঁর বার্ষিক আয় ৯ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছেন। কীভাবে এত সম্পদের মালিক হল সে। দীর্ঘদিন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে থাকার সময় জাহাঙ্গির ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধি ঘটেছে, যা তার বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বেলসিঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলেন জাহাঙ্গির। বর্তমানে জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছে।অ ল্প সময়ের মধ্যেই জাহাঙ্গির খান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কোটি কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছে। এমনকি তার স্ত্রী রোজিনা বিবির নামেও রয়েছেল বিপুল সম্পত্তি। নির্বাচনী হলফনামায় জাহাঙ্গিরের নামে কোনও মামলার উল্লেখ ছিল না। অথচ জাহাঙ্গির গ্রেফতার হতেই এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে লুঠপাট ও আর্থিক তছরুপের মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জাহাঙ্গিরের হয়ে মামলা লড়তে রাজি হয়নি কোনও আইনজীবী। স্বামী এভাবে বিপাকে পড়তেই কি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিল রোজিনা। ফলতায় ভোটের দিন স্বামী বাড়ি ছাড়লেও পালিয়ে যাননি রোজিনা। মুখে মাস্ক পড়ে ভোট দিতে দেখা গেছে তাকে। বাড়ির সাধারণ মহিলাদের মত এতটুকুও ইতস্তত করেননি তিনি। সংবামাধ্যমের সব প্রশ্নকে এড়িয়ে ভোট দিয়েছিলেন রোজিনা। তার হাবভাব দেখে এটা স্পষ্ট হয়েছিল স্বামীর কুকীর্তি তার অজানা নয়। আর সেইকারণেই তো পুলিশি হেফাজত থেকে স্বামীকে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করার সাহস পেয়েছেন। এখন দেখার রোজিনার কপালে কি লেখা রয়েছে।