ভারতে জমি কিনছে জামাত !

বাংলাদেশে বিএনপি সরকার গঠন করলেও ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে জামাত। আর জামাতদের ভয়ে কাঁপছে ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রাম।


শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ বাংলাদেশ নির্বাচনে বিএনপি ভোট পেয়েছে ৪৯.৯৭ শতাংশ জামায়াত পেয়েছে ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট। রাজধানী ঢাকাসহ বেশ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ আসন ছিনিয়েছে নিয়েছে জামায়াত জোট। তারমধ্যে সাতক্ষীরায় ৪ টি আসন পেয়েছে। আর এই সাতক্ষীরা উঃ ২৪ পরগনার বসিরহাটের স্বরূপনগর সীমান্তের খুব কাছেই। সীমান্ত পেরোলেই বাংলাদেশের সাতক্ষীরা। আর এই সাতক্ষীরায় জামায়াত জোট জয়লাভ করায় আতঙ্কে এই সীমান্তঘেঁষা গ্রামের মানুষরা। সন্ধ্যা নামলেই জীবন বাঁচাতে বাড়ির দরজা বন্ধ করে গৃহবন্দী হতে হচ্ছে। “কখন অনুপ্রবেশকারীরা, গলা কেটে দিয়ে যাবে” কেউ জানে না।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার কৈজুড়ী সীমান্ত। স্বরুপনগর সীমান্তের গাবডা, কৈজুড়ী,দোবিলা,চিতুড়ি, খোলসে, নবাতকাঠি, বালতি, নিত্যানন্দকাঠি, বিথারি, হাকিমপুর বরাবর বেশিরভাগ জায়গা কাঁটাতার বিহিন অবস্থায় রয়েছে। আর এই সীমান্তের ওপারে রয়েছে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা” এই জেলায় নবনির্বাচনে জয়লাভ করেছে জামাত শিবির! তারপরেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এপারের বাসিন্দারা। এর আগে একাধিক সময় এই করিডর ব্যবহার করে কখনো রোহিঙ্গা, কখনো জামাত-শিবিরের দুষ্কৃতীরা আবার কখনো বিভিন্ন অনুপ্রবেশকারী ব্যবহার করেছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সীমান্ত বরাবর কাঁটাতারের ব্যবস্থা করা হোক” তা না হলে আগামী দিন এই গ্রাম আর রক্ষা করা যাবে না।

এই এলাকারই পাশে রয়েছে বাহান্ন হাজার একর বল্লি বিল সেখানকার জমি একের পর এক বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। যারা কিনছেন তারা বাংলাদেশের লোক।, ভারতের বেশকিছু মানুষকে অর্থের লোভ দেখিয়ে সেইসব জমি হস্তান্তর হচ্ছে, যা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে খোদ প্রাক্তন বিএসএফ কর্মী। তিনি আরও বলেন’ ভারতবর্ষে অনুপ্রবেশ রুখতে চাকরি জীবনে শ্রীনগরে লড়াই করেছি পাকিস্তানের অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে। তারপর চাকরি শেষ করে বাড়ি ফিরে এসে দেখেন সেই একই অবস্থা। এখানেও বাংলাদেশিঅনুপ্রবেশ কারীদের জন্য বাড়িতে আতঙ্কে থাকতে হয়। ওই গ্রামের পাশ দিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের আবদার ভেড়ি, আর এই ভেড়ি বরাবর রয়েছে এ পারে চাষের জমি। সেই ফসলের মাঠ দিয়ে রাতভর চলতো পারাপার।

কেন্দ্র রাজ্য টানাপোড়েনে এখনও সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ বাকি। রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের মাঝে পড়ে আতঙ্কে কাটাতে হচ্ছে এইসব সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষদের। কবে যে এই আতঙ্কের প্রহর কাটবে তা জানা নেই। আবার তো একটা নির্বাচন দোড়গোড়ায়। মিলবে প্রতিশ্রুতি। আবারও আশায় বুক বেঁধে ভোটের লাইনে দাঁড়াবে এইসব সীমান্ত ঘেঁষা বসবাসকারী মানুষেরা। কিন্তু আদৌ কি প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে নাকি রাতের অন্ধকারে অনুপ্রবেশ কাঁটায় সিঁটিয়ে থাকতে হবে তাদের। এসআইআর হতেই এই পথ দিয়েই বহু বাংলাদেশি ফিরে গেছে। এখন সীমান্তে অনেক জায়গায় বসতিশূন্য। তবে এভাবে চলতে থাকলে তারা আবার ফিরে আসতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।