‘সম্পর্ক আরও কঠিন হল’ বললেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জের ইতুরুপ দ্বীপে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফর ঘিরে তীব্র আপত্তি জানাল জাপান। বৃহস্পতিবার এই সফরকে ‘একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তাঁর অভিযোগ, পুতিনের এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং জাপানে রাশিয়াবিরোধী মনোভাব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রুশ সংবাদমাধ্যম TASS-এর খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ইতুরুপে পৌঁছন পুতিন। জাপানে এই দ্বীপটি ‘এতোরোফু’ নামে পরিচিত। চারটি বিতর্কিত দ্বীপের কোনও একটিতে রুশ প্রেসিডেন্টের এটাই প্রথম সফর। ক্রেমলিনের প্রকাশিত ভিডিয়ো অনুযায়ী, ইতুরুপে একটি মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানাতেও যান পুতিন।

সফরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর জাপানের সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাকাইচি। সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তাতেও তিনি জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকেই মস্কোকে এই অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের সফর না করার জন্য বার বার অনুরোধ জানিয়েছে টোকিও। তাঁর দাবি, ঐতিহাসিক এবং আন্তর্জাতিক আইন—দুই দিক থেকেই উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপগুলি জাপানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে সেখানে রুশ প্রেসিডেন্টের সফর জাপানের অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
তাকাইচির কথায়, ‘‘এই সফর জাপানের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’’ তাঁর আরও বক্তব্য, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কঠিন পরিস্থিতিতেও জাপান সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু পুতিনের সফর দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে জাপান ও রাশিয়ার বিরোধ দীর্ঘদিনের। ইতুরুপ, কুনাশির, শিকোতান এবং হাবোমাই দ্বীপপুঞ্জকে জাপান ‘নর্দার্ন টেরিটোরিজ’ বলে দাবি করে। অন্য দিকে রাশিয়া এগুলিকে ‘সাউদার্ন কুরিলস’ বলে নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্বে সোভিয়েত বাহিনী দ্বীপগুলির দখল নেয়। পরবর্তী সময়ে প্রায় ১৭ হাজার জাপানি বাসিন্দাকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয় বলে টোকিওর দাবি। এই ভূখণ্ডগত বিরোধের জেরেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে এখনও পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ইউক্রেন যুদ্ধের পর জাপান রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় সেই সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে।