ক্যাম্পাসে ছড়াচ্ছে জন্ডিস, বিক্ষোভ ঘিরে অগ্নিগর্ভ ভিআইটি বিশ্ববিদ্যালয়

গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, চ্যান্সেলরের বাসভবনে হামলা। ক্যাম্পাসে ছড়াচ্ছে জন্ডিস ছড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছাত্রদের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : জন্ডিসে আক্রান্ত হচ্ছেন পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। অভিযোগ পেয়েও সক্রিয় হতে দেখা যায়নি কলেজ কর্তৃপক্ষকে। তারই প্রতিবাদে এবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখালেন মধ্যপ্রদেশের ভিআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। তুমুল বিক্ষোভ চলে। ভাঙচুর করা হয় আচার্যের বাসভবনেও।

মঙ্গলবার রাতে ভোপালের ভিআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শুধু আচার্যের বাসভবনেই নয়, ইনদোর-ভোপাল হাইওয়ের উপর বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। একাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ক্যাম্পাসেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভেলোর ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি অর্থাৎ ভিআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েক জন শিক্ষার্থী জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে পড়ছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রপা। একসঙ্গে প্রায় ২৪ জন অসুস্থ হয়ে পড়ার পরই নড়েচড়ে বসেন পড়ুয়ারা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা, হস্টেলের খাবারের মান খারাপ হওয়ার কারণেই কলেজ জুড়ে এমন জন্ডিস ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষোভকারী। অক্টোবস মাসে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে তিন জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এরপরও নির্বিকার থেকেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বার বার কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করছেন বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের। সবমিলিয়ে ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।

বিক্ষোভকারী হস্টেল পড়ুয়ারা জানাচ্ছেন, কলেজ কর্তৃপক্ষকে যখন পুরো বিষয়টি জানানো হয়, তখন কলেজের গার্ড এবং স্টাফরা তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। পড়ুয়াদের মুখ বন্ধ করতে হুমকি এমনকি মারধরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাই বাধ্য হয়ে বিক্ষোভে সামিল হতে হয়েছে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা।

তাই বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন হাজার হাজার পড়ুয়া। স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ চলে। তার পাশাপাশি দুটি গাড়ি, একটি বাস, একটি অ্যাম্বুল্যান্স এবং বেশ কয়েকটি মোটরবাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। উত্তেজিত পড়ুয়াদের মধ্যে অনেকে আবার আচার্যের বাসভবনের একাংশে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন আরএসএসের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপির কর্মীরা।

পুরো ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সেহোর এবং আশপাশের একাধিক এলাকায়। অশান্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে এই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে ভিআইটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।