কাঁদানে গ্যাস-জলকামান পুলিশের, শান্তির বার্তা ছাত্রনেতার।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : জেপিএসসি এবং জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ‘বিধানসভা ঘেরাও’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাঁচী। বিধানসভার কাছে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীদের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল, জলকামান এবং লাঠি ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। অন্য দিকে, পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর পাশাপাশি পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে।
সংঘর্ষের পর ছাত্রনেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক পথে প্রতিবাদ চালানোর আবেদন জানান। তাঁর অভিযোগ, কিছু অসামাজিক ব্যক্তি আন্দোলনকে অন্য দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছেন। তাঁদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিয়ো পরীক্ষা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রশাসনের কাছেও ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন পাসওয়ান।

রাঁচীর সিটি এসপি পরস রানা জানান, আন্দোলনকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশই শান্তিপূর্ণ ছিলেন। তবে একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে আসেন এবং পুলিশের তিন কর্মী চাপে পড়ে আহত হন বলে তাঁর দাবি। পুলিশ ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। আন্দোলনকারীদের পাথর না ছুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার আবেদন জানান এসপি।
জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্ম মোর্চার ডাকে এই বিধানসভা অভিযান হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিল করতে হবে, অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই তদন্ত করতে হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কার আনতে হবে।

আন্দোলনে যোগ দেন ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোও। টানা ন’দিন অনশন করেও অ্যাম্বুল্যান্সে করে স্ট্রেচারে আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। তাঁর দাবি, আন্দোলন ইতিমধ্যেই গণআন্দোলনের চেহারা নিয়েছে। সরকারের সঙ্গে তিন দফা আলোচনা হলেও দাবি পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
এ দিকে, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর অধীনে একটি ইসিআইআর দায়ের করেছে।