ফুল মাকর্স পেয়েও ইন্টারভিউ এর ডাক পাননি, প্রতিবাদে চাকরিপ্রার্থীরা
নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক: আন্দোলন আর এসএসসি। এই দুটি নাম যেন একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে। এসএসসির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা। যার উপর চোখ বন্ধ করে ভরসার বিষয়টি কোথাও হয়তো হারিয়ে গেছে। ২০১৬ সালের এসএসসি-র প্যানেল ঘিরে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ। মামলা, মোকদ্দমা, তদন্ত অবশেষে প্যানেল বাতিল। আবারও আদালতের নির্দেশের কড়া নজরে পরীক্ষা। কিন্তু এত কিছুর পরেও যেন অশান্তি পিছু ছাড়ছে না এসএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে।

আমরা যদি ২০১৬ সালের প্যানেল দেখি, সেই প্যানেল ঘিরে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ যেজন্য বাতিল হয়েছে সেই প্যানেল। এতে চাকরি হারাতে হয় প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীকে। চাকরি হারিয়ে আন্দোলনে সামিল হন চাকরিহারারা। ফিরিয়ে দেবার দাবি জানিয়ে দীর্ঘদিন চলে আন্দোলন কিন্তু সে চাকরি তারা ফিরে পাননি চাকরি ফিরে পেতে আদালতের নির্দেশে ফের বসতে হয়েছে চাকরিহারাদের। ২০২৫ এ নেওয়া হয়েছে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকরা যেমন বসেন তেমনই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান নতুন অর্থাৎ ফ্রেসাররা। একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণির লিখিত ৬০ নম্বরের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে ৭ই নভেম্বর। লিখিত পরীক্ষার সঙ্গে আরো দুটি পর্যায়ে নম্বর যুক্ত হয়েছে একটা হচ্ছে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দশ নম্বর আর একটা হচ্ছে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর। এই তিনটি পর্যায়ের নম্বর যুক্ত হয়ে ইন্টারভিউয়ের ডাকার তালিকা তৈরি হয়েছে। আর এই তালিকা প্রকাশের পরই এসএসসির নিয়োগ কিরে ফের আন্দোলন।

প্রথমের আন্দোলনে নামেন ফ্রেসাররা। নতুনদের বক্তব্য যে তারা অনেকেই ফুল মাকর্স পেয়েও ইন্টারভিউ এর ডাক পাননি তার কারণ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পাওয়া ১০ নম্বার তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়নি। তাই বিকাশ ভবন অভিযানে শামিল হন নতুন যে সমস্ত পরীক্ষার্থীরা ছিলেন তারা। তাদের সঙ্গে বঞ্চনা হয়েছে এই অভিযোগ তুলেছেন নতুনরা। তাদেরই আন্দোলনের ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বিকাশ ভবনের সামনে। অতিরিক্ত ১০ নম্বর বাতিলের দাবিতে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। তবে দ্বিতীয় এসএলএসটি এই একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ এর ডাককে ঘিরে আন্দোলনের সামিল হয়েছেন ২০১৬ সালের চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। তার কারণ নতুন এই ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় ডাক পাননি একাধিক চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা। প্রত্যেকের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে যারা ২০১৬ সালের চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা ছিলেন তাদের। এই দাবিতে মঙ্গলবারও বিকাশভবন চত্ত্বর থাকল অগ্নিগর্ভ। দ্বিতীয় এসএলএসটি-র ইন্টারভিউ-এ ডাক না পাওয়ায় ফের আন্দোলন মুখর চাকরিহারারা। কি হবে ভবিষ্যৎ? ৩১ শে ডিসেম্বর কি শিক্ষক হিসেবে চাকরির শেষ দিন হবে?

সেই চিন্তায় আবারও একবার ঘুম উড়েছে চাকরিহারাদের। তাই সব চাকরিহারাকেই চাকরি দিতে হবে এই দাবিতে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠেছে চাকরিহারাদের মধ্যে। আন্দোলনে সামিল হয়েছে তারা। যদিও মঙ্গলবার অর্থাৎ ১৮ নভেম্বরে র ঘোষিত আন্দোলন পুলিশি তৎপরতায় তেমনভাবে প্রভাত ফেলতে পারেনি। জামায়াতের আগেই পুলিশ ছাত্র ভঙ্গ করেছে আন্দোলন । তবে আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চাকরিহারারা। অন্যদিকে ১৮ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ভেরিফিকেশন এর কাজ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে এসএসসিকে সেই নির্দেশ অনুযায়ী চলছে কাজ। তবে আন্দোলন যেভাবে দানা বেধেছে তাতে এই চাকরির ভবিষ্যৎ কি হবে সে নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই কোর্টে মামলা করেছেন নতুন চাকুরিপ্রার্থীরা। এসএসসি এই পরীক্ষায় তারা বঞ্চিত হয়েছেন এই দাবিতেই মামলা। ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিলের জেরে চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা সব চাকরিহারাদের চাকরির দাবিতে ফের আন্দোলন শুরু করেছেন। এসএসসির ইন্টারভিউ তালিকায় ঠাঁই না-পেয়ে যোগ্য তালিকাভুক্ত যে শিক্ষকেরা ৩১ ডিসেম্বর থেকে চাকরিহারা হবেন, যদিও তাঁদের জন্য শূন্য পদ বাড়ানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তবে অন্যদিকে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর বাতিল করতে হবে ও ইন্টারভিউ এর জন্য নতুন করে তালিকা প্রকাশ করতে হবে এই দাবিতে আন্দোলন জোরদার করছেন ফ্রেসাররা। ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ, আন্দোলন , আদালতে মামালার জেরে ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হয়েছে। এসএলএসটি দ্বিতীয় ২০২৫ সালের প্যানেলের গোড়ায় শুরু হয়ে পড়ল আন্দোলন। তাই এই চাকরির ভবিষ্যৎ কি হবে তা আগামী দিনে বোঝা যাবে।