একটা পদত্যাগের দাবি আর প্রতিবাদ কর্মসূচি। সেই প্রতিবাদ ঘিরেই রাজধানী দিল্লিতে উত্তেজনা ধরপাকড় ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পথে নেমেছিলেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের গন্তব্য ছিল দিল্লির যন্তর মন্তর। কিন্তু সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই কনট প্লেসে তৈরি হয় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। আটক করা হয় সিপিআইএমের রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিট্টাসকে। আর তাঁকে আটক করার পর পুলিশের বাসের মধ্যে যে আচরণের অভিযোগ সামনে এসেছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ঘটনাটি ঘটে ১১ অক্টোবর, রবিবার।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছিল ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের একাংশের যে আপত্তি, সেই বিতর্কের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে
প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের নাম বাদ পড়া ও সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনও অনিয়মের অভিযোগ মানা হয়নি।এই আন্দোলনের আবহেই কনট প্লেসে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন সিপিআইএমের রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিট্টাস অভিযোগ, সেই সময়ই দিল্লি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের কর্মীরা তাঁকে আটক করেন। ব্রিট্টাসের অভিযোগ,তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশের বাসে, তিনি বারবার নিজের সাংসদ পরিচয় জানিয়ে পুলিশকর্মীদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন কিন্তু তাঁর অভিযোগ সেই অনুরোধে কর্ণপাত করা হয়নি বাসের ভিতরে তাঁকে আসনে চেপে বসিয়ে রাখা হয় ও তাঁর সঙ্গে শারীরিক দুর্ব্যবহার করা হয় তাঁর দাবি, তাঁকে গলা ধরে চেপে ধরা হয়েছিল ও শ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছিল।
এই অভিযোগ সামনে আসার পরই গোটা ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তরজা শুরু হয়েছে। ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। জন ব্রিট্টাসের দাবি, বাসের মধ্যে তাঁর পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে বিষয়টি দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নজরে আসে। এরপর তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, বাস থেকে নামানোর সময়ও তাঁকে যথাযথভাবে সাহায্য করা হয়নি। বরং তাঁকে রাস্তার পাশে নামিয়ে দেওয়া হয়। শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেও তাঁর অসুবিধা হচ্ছিল বলে খবর। পরে তাঁকে চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সিপিআইএমের তরফে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োতেও বাসের সিঁড়িতে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের আচরণ ও আটক করার পদ্ধতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। তাঁকে দেখতে যান সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি ও রাজ্যসভার সাংসদ এ এ রহিম। যেভাবে পুলিশ ও আধাসেনা সাংসদ ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীর উপর চড়াও হয়েছে তাতে দিল্লি পুলিশকে পাগলা কুকুরের সঙ্গে তুলনা করেছেন জন ব্রিট্টাস।
শুধু জন ব্রিট্টাস নন, এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রী ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের আটক করার ঘটনাও সামনে এসেছে। স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া বা এসএফআই, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা এআইএসএ ও অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কর্মীদেরও আটক করা হয় বলে খবর। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে পুলিশ বাসে তুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, কী কারণে আটক করা হচ্ছে? এই সমস্ত বিষয় নিয়েও প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। দিল্লির রাস্তায় স্লোগান, পুলিশি বাধা ও একের পর এক আটকের ঘটনায় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফলে একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ কি প্রতিবাদকারীরা পাচ্ছেন? জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে যে ধরপাকড় ও পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার কি এভাবেই বাধার মুখে পড়বে।