নওশাদ সিদ্দিকীকে ঘিরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, তৃণমূল-আইএসএফ সংঘর্ষ।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : সকাল থেকে মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভোট চললেও বেলা গড়াতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভাঙড়ের প্রাণগঞ্জ অঞ্চলের রঘুনাথপুর এলাকা। আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে ঘিরে বিক্ষোভ এবং পাল্টা তৃণমূল কর্মীদের তাড়া করার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জ করতে হয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ভোটের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এদিন সকালে রঘুনাথপুর এলাকায় গিয়েছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন উপস্থিত তৃণমূল কর্মীরা। বিধায়ককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখানো হয় বলেও অভিযোগ। এর পরেই পাল্টা মেজাজে ধরা দেন নওশাদ। আইএসএফ কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি তৃণমূল কর্মীদের ধাওয়া করেন। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
ঘটনার পর নওশাদ সিদ্দিকী সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, ”তৃণমূল কর্মীরা এখানে ভোট চুরি করতে এসেছিল। বুথ দখলের চেষ্টা হচ্ছিল। সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল বলেই আমরা প্রতিবাদ করেছি।”
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের পালটা দাবি, নওশাদ সিদ্দিকী বহিরাগতদের নিয়ে এসে এলাকায় অশান্তি ছড়াচ্ছেন এবং শান্তিপূর্ণ ভোটে বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন।
পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা
দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে রঘুনাথপুর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভাঙড় থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজনা প্রশমিত করতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা লাঠিচার্জ শুরু করে। বর্তমানে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে প্রচুর পুলিশ ও আধাসেনা।
বর্তমান পরিস্থিতি
এই মুহূর্তে রঘুনাথপুর এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এই ঘটনার জেরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এলাকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।