বিজেপির বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে বিদ্রোহী শিবির তৈরির অভিযোগ!

‘টাকা নেওয়ার ভিডিয়োয় ধরা পড়েছিলেন কাকলি’, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কীর্তি, তুললেন ‘অপারেশন লোটাস’ তত্ত্বও

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন দলের প্রবীণ সাংসদ কীর্তি আজাদ। বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিশানা করে তাঁর দাবি, ‘‘৫ লক্ষ টাকা নিতে গিয়ে ক্যামেরায় ধরা পড়েছিলেন কাকলি।’’ একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘অপারেশন লোটাস’-এর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূল ভাঙার জন্য ভয় দেখানো, চাপ সৃষ্টি এবং প্রলোভনের রাজনীতি চলছে।

শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কীর্তি বলেন, ‘‘আজ যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করছেন, তাঁদের আগে নিজেদের অতীতের জবাব দেওয়া উচিত। কাকলি ঘোষ দস্তিদার টাকা নিতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। এখন তিনি অন্যদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কী করে?’’ বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে কারা কী ভাবে প্রভাবিত হয়েছেন, সে সম্পর্কেও তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন কীর্তি। এমনকি ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশ্যে আনার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূল সাংসদ। কীর্তির দাবি, বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে বামেদের কাছ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রতই বারবার রাজনৈতিক পদ ও দায়িত্বের জন্য তৃণমূল নেতৃত্বের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁকে সাংসদ, পরে বিধায়ক এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে সাংসদদের ভয় দেখানোর অভিযোগও তোলেন কীর্তি। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা প্রথমে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে রাজি ছিলেন না, তাঁদের বাড়িতে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। কয়েক জন সাংসদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও করেন তিনি। প্রথমবারের সাংসদ বাপি হালদার এবং মিতালি বাগের বাড়িতে হামলার উল্লেখ করে কীর্তির দাবি, আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেই সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে।

বিদ্রোহী সাংসদদের বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বিদ্রোহীদের বৈঠক এবং পরে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিভিন্ন সাংসদের বাড়িতে যাওয়া নিছক কাকতালীয় নয়। এর নেপথ্যে বিজেপির পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে বলে দাবি করেন কীর্তি।

রাজ্যসভা সদস্য প্রকাশ চিক বরাইকের ইস্তফা এবং কয়েক জন বিদ্রোহী সাংসদের দিল্লি সফর প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কীর্তির দাবি, বিজেপির একাংশের সক্রিয় মদতেই এই রাজনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে তাঁর কথায়, ‘‘এত কিছু করেও অপারেশন লোটাস এখনও সফল হয়নি।’’

তৃণমূলের অন্দরে চলা এই সংঘাতের আবহে রাজ্যের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন বহু বিধায়ক ও সাংসদ। যদিও দলীয় নেতৃত্ব এখনও প্রকাশ্যে কোনও ভাঙনের কথা মানতে নারাজ।