পুজোর আয়োজন থেকে শুরু করে ভোগ রান্না, একাই একশো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যজ্ঞের আগুনে ঘৃতাহুতি দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মাম্পি রায়, সাংবাদিক: শুধু মুখ্যমন্ত্রীর আসন সামলানোটাই শেষ নয়, তিনি যেখানেই যান সেখানেই তদারকির কাজে দেখা যায়। করোনা আবহে রাস্তায় চকের দাগ কেটে দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া থেকে শুরু করে আরও কত কী। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে কতরকম ভূমিকায় দেখা গিয়েছে বাংলার এই মুখ্যমন্ত্রীকে, সেই প্রশ্নের উত্তর বোধহয় একবারে মনে করাটা খুব মুশকিল। তারই মধ্যে অন্যতম বাড়ির কালীপুজোয় তদারকির ভূমিকা। কালীঘাটে নিজের বাড়িতে কালীপুজোয় একদিকে যেমন পুজোর আয়োজন, পুজোর কাজে তিনি ব্যস্ত থাকেন, তেমনই আবার ভোগ রান্নার কাজেও দেখা যায় তাঁকে। প্রত্যেকবারের মতো এবারেও সেইসব ছবি ছুঁয়ে গেল নেটিজেনদের মনকে।






প্রত্যেকবারের মতো এবারেও রীতি মেনে দীপান্বিতা অমাবস্যায় কালীপুজোর আয়োজন হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে। পুজোয় হাজির ছিলেন রাজ্য সরকারের প্রথম সারির আমলা, পুলিশকর্তা, মন্ত্রী, বিধায়ক, কলকাতার কাউন্সিলাররা। এছাড়াও একাধিক শিল্পপতি, টলিউড তারকারাও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির এই কালীপুজোয়। সপরিবারে উপস্থিত ছিলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিকালে লেক কালীবাড়িতে পুজো দিয়ে তার পর মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে পৌঁছে যান তিনি। সেখানে নিজে হাতে যজ্ঞে ঘৃতাহুতি দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালো পাঞ্জাবি পরে একেবারে সাবেকি সাজে কালীপুজোয় হাজির হয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর পাশেই নীল সালোয়ার কামিজ পরে ছিল অভিষেককন্যা আজানিয়া।


অভিষেকপুত্র আয়ান্সকেও দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে ঘুরতে। সেইসব ছবি ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

অভিষেকের মেয়েকে এর আগেও বাবার হাত ধরে পুজো পরিক্রমা করতে দেখা গিয়েছিল। দুর্গাপুজোয় বাবার সঙ্গে ঠাকুর দেখার পাশাপাশি ফুচকা খেতেও দেখা গিয়েছে। একইসঙ্গে ঠাকুর দেখতে গিয়ে জনসংযোগও সেরেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন সাধারণ ভূমিকায় নিজেকে স্থাপন করাটা বেশ পছন্দ করেন নেটিজেনরা। পোস্টগুলিকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভ্রাতৃবধূ তথা অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজো শুরুর সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডেকে নেন দুই অভিনেত্রী জনপ্রতিনিধি জুন মালিয়া, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এছাড়াও পুজোয় হাজির হয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, প্রাক্তন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। শিল্পপতিদের মধ্যে ছিলেন হর্ষ নেওটিয়া, প্রসূন মুখোপাধ্যায়রা। এছাড়াও ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। পুজোয় দেখা গিয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিমকে। ছিলেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সুব্রত বক্সী, তৃণমূল নেত্রী শ্রেয়া পান্ডে, রত্না চট্টোপাধ্যায় সহ বিশিষ্টরাও।

সোমবার লেক কালীবাড়ি এবং মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির পুজোয় উপস্থিত হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তাঁর গন্তব্য নৈহাটির বড় মায়ের মন্দির। সেখানে পুজো দেবেন অভিষেক। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বড় মায়ের একটি মূর্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই তুলে দেবেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।