ষষ্ঠী চটোপাধ্যায়, সাংবাদিক: ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় চার পুলিশ আধিকারিকের জামিন শুনানি চলাকালীন আদালতের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ। রাজ্যের আইনজীবী ও তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে নিজেকে মামলার শুনানি থেকে সরিয়ে নিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। মামলাটি ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হল সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে।

২০২১ সালে বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত চার পুলিশ আধিকারিকের মধ্যে রয়েছেন রিনা সরকার ও দীপঙ্কর দেবনাথ। সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, চার বছর আগে সমন জারি হলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়নি। তবে সম্প্রতি হঠাৎ করেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সিবিআইয়ের আইনজীবী ময়ূখ মুখার্জির অভিযোগ, “এই মামলায় রক্ষকই শিকারী হয়ে উঠেছে। রাজনীতিবিদ ও পুলিশের মধ্যে একটি স্পষ্ট যোগ রয়েছে।”
প্রথমে সিবিআইয়ের চার্জশিটে পুলিশ অফিসারদের সাক্ষী হিসেবে দেখানো হলেও পরবর্তীতে অভিযুক্ত করা হয়—এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের পক্ষে দাঁড়ানো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মন্তব্য, “এটা সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। অন্যান্য মামলায় সময় দেওয়া হলেও, এই অফিসারদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। হেফাজতে নিয়ে নেওয়া হয়েছে স্রেফ সিবিআইয়ের চাপে।”
বিশ্বজিৎ সরকারের সাক্ষ্যেরও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ। তাঁর কথায়, “৪ বছর পর হঠাৎ করে তাঁর বক্তব্য পাল্টে গেল! রত্না অভিযোগ লিখেছিলেন খালি কাগজে, দীপঙ্কর নাকি ইটের রক্তের দাগ ধুয়ে দিয়েছিলেন—এসব ভিত্তিহীন।”
তবে এই মন্তব্যেই বিতর্ক শুরু। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “মি. ব্যানার্জি, আমি আপনার বক্তৃতা সহ্য করব না। আপনার বক্তব্য আইনসঙ্গত নয়। দয়া করে আবেগ নয়, যুক্তি নিয়ে কথা বলুন।” সঙ্গে সঙ্গে বিচারপতি জানিয়ে দেন, “এই মামলাটি আমি আর শুনব না। ফেরত পাঠাচ্ছি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে।”
কল্যাণের অনুরোধ ছিল অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়ার। কিন্তু বিচারপতির জবাব, “আমি এই ধরনের আবেদনে সাড়া দিতে পারি না। আমরা বিচারকের করুণায় আছি—এই ধরনের মন্তব্যও অগ্রহণযোগ্য।” মামলার শুনানি আপাতত স্থগিত। আগামী দিনে নতুন বেঞ্চে ফের শুনানি শুরু হবে।