বিক্ষুব্ধদের খোলা চ্য়ালেঞ্জ কল্যাণের !

‘‘যাঁরা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তাঁদের আসল নেতা এখন নরেন্দ্র মোদী। ’’

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের জল্পনার আবহে দলবদলু ও বিক্ষুব্ধ নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই সুর চড়ালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অন্দরে থেকে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ তুলে একাধিক নেতাকে কার্যত নিশানা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশে ছুড়ে দিয়েছেন খোলা চ্যালেঞ্জও।

সোমবার এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কল্যাণ দাবি করেন, যাঁরা সম্প্রতি দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন বা বৈঠক করেছেন, তাঁদের প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান এখন আর গোপন নেই। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তাঁদের আসল নেতা এখন নরেন্দ্র মোদী। তাঁরা কার্যত বিজেপিতেই যোগ দিয়েছেন, শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি।’’

দলের প্রতি আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে কল্যাণ বলেন, ‘‘যদি সত্যিই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের উপর আস্থা থাকে, তা হলে নিজেদের এলাকায় গিয়ে সাধারণ কর্মীদের মুখোমুখি হোন। বুথ স্তরের কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সাহস আছে কি?’’

তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, কিছু নেতা শুধুমাত্র ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার স্বার্থেই রাজনৈতিক অবস্থান বদলাচ্ছেন। তাঁদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘‘দল ছাড়তে চাইলে চলে যান। কিন্তু দল ছাড়ার পর নিজেদের পরিচয়ের সঙ্গে ‘তৃণমূল নেতা’ বা ‘তৃণমূল সাংসদ’ তকমা ব্যবহার করা বন্ধ করুন।’’

ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দলের কর্মীদের পাশে না থাকার অভিযোগও তোলেন কল্যাণ। নাম না করেই একাধিক নেতার বিরুদ্ধে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর যখন বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছিলেন, তখন সেই নেতারা কতটা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর দাবি, বহু ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মী বা তাঁদের পরিবারের পাশে দেখা যায়নি দলের কিছু প্রথম সারির মুখকে।

একই সঙ্গে এক নেত্রীর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরেও পরোক্ষে কটাক্ষ করেন তিনি। অভিযোগ করেন, ভোটের পরপরই তিনি নিজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি দলেরই কয়েকজন নেতাকে নিশানা করার চেষ্টাও চলছে বলে দাবি করেন কল্যাণ।

বক্তব্যের শেষে বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে কল্যাণ বলেন, ‘‘কারও কাছে ক্ষমতা, অর্থ, নিরাপত্তা বা প্রভাব থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের শক্তি অন্য জায়গায়। আমাদের সঙ্গে রয়েছেন ‘মা, মাটি ও মানুষ’।’’ সবমিলিয়ে কল্যাণের এই কড়া বার্তায় কি আদৌ বেসুরোদের সুর মিলবে ? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।