উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি মন্দিরে বিশেষ পুজা অর্চনার মাধ্যমে সকলের মঙ্গলের কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামেও পুজো দেওয়া হয়।

রিয়া দাস, সাংবাদিক : হর হর মহাদেব। ছয় মাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। বরফঢাকা পাহাড়কে সাক্ষী রেখে খুলল কেদারনাথ ধামের দ্বার। হাজার হাজার ভক্তের চোখে আনন্দ, আবেগ আর তৃপ্তি ধরা পড়ল। দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকার পর আবারও প্রাণ ফিরে পেল ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান কেদারনাথ মন্দির। সকাল আটটার কিছু পরে নিয়ম মেনে মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়। দরজা খোলার আগেই গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ সেজে উঠেছিল এক অপার্থিব সৌন্দর্যে। প্রায় ৫১ কুইন্টাল ফুল দিয়ে সাজানো হয় কেদারনাথ মন্দির। নানা রঙের ফুল। চারপাশে বরফে মোড়া পাহাড় ও তারই মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা কেদারনাথ মন্দির। সব মিলিয়ে বলাই যায় এক স্বর্গীয় দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। সেই দৃশ্য দেখতে এবং বাবা কেদারের প্রথম দর্শন পেতে বহু মানুষ ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
কেদারনাথ মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়। কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাসের কেন্দ্র। হিন্দু ধর্মের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম এই মন্দির সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১ হাজার ৭৫৫ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত। প্রচলিত বিশ্বাস, মহাভারতের পর পাণ্ডবরা পাপমোচনের উদ্দেশ্যে এখানে এসে মহাদেবের আরাধনা করেছিলেন। সেই থেকেই কেদারনাথ ধাম হিন্দুদের কাছে এক পরম পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। প্রতি বছর শীতকালে প্রবল তুষারপাতের কারণে ছয় মাসের জন্য মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয় ও গ্রীষ্মের শুরুতে পুনরায় ভক্তদের জন্য দ্বার খুলে দেওয়া হয়। তাই এই দিনটি শুধু মন্দির খোলার দিন নয়। এটি ভক্তদের কাছে উৎসবের দিন বলাই যায়। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। তিনি মন্দিরে বিশেষ পুজা অর্চনা করেন এবং সকলের মঙ্গলের কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামেও পুজো দেওয়া হয়। পুজোর পর মুখ্যমন্ত্রী ধামি চারধাম যাত্রায় আগত ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকার যাত্রীদের জন্য যথা সম্ভব ভালো ব্যবস্থা করেছে। তবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সেই ব্যবস্থাকে রক্ষা করা প্রত্যেক ভক্তেরও দায়িত্ব। তাঁর এই বার্তায় স্পষ্ট, এই যাত্রা শুধু আধ্যাত্মিক নয়, দায়িত্ববোধেরও।

মন্দিরের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই দুটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে কেদারনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়। আকাশ থেকে ঝড়ে পড়া ফুলে ঢেকে যায় গোটা প্রাঙ্গণ। ভক্তরা হাত জোড় করে সেই দৃশ্য উপভোগ করেন। অনেকের কাছে এটি ছিল জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। পাহাড়ি রাস্তা জুড়ে যেন উৎসবের আবহ। মনে হচ্ছিল যেন বহুদিন পর বাবা নিজের গৃহে ফিরে এলেন। এখন আগামী ছয় মাস খোলা থাকবে কেদারনাথ ধামের দ্বার। দেশের নানা প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে এসে মহাদেবের দর্শন করবেন, প্রার্থনা করবেন ও আশীর্বাদ নিয়ে ফিরবেন। সব বাধা পেরিয়ে মানুষ এখানে আসেন শুধু এক ঝলক দর্শনের জন্য। কারণ কেদারনাথ শুধু একটি গন্তব্যস্থল নয় এটি আত্মার শান্তির খোঁজার পথ।