আবগারি দুর্নীতি মামলায় রেহাই পেলেন কেজরিওয়াল

স্বস্তি পেলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়া। একইসঙ্গে মুক্তি দেওয়া হয়েছে আরও ২১ জনকে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: “২৪ ঘণ্টা টিভি চ্যানেলে দেখানো হত কেজরিওয়াল ভ্রষ্ট, দুর্নীতিগ্রস্ত”- আবগারি মামলা থেকে রেহাই পেয়েই আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

দিল্লির বহুল আলোচিত আবগারি দুর্নীতি মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়া। শুক্রবার দিল্লির একটি নিম্ন আদালত এই মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। একইসঙ্গে মুক্তি দেওয়া হয়েছে আরও ২১ জনকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চন্দ্র শেখর রাওয়ের কন্যা কে কবিতাও।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট ও গ্রহণযোগ্য তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে সিবিআই। বিচারক জিতেন্দ্র সিং বলেন, “গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে জোরালো প্রমাণ প্রয়োজন, যা এই মামলায় উপস্থাপন করা যায়নি। তথ্যপ্রমাণ ছাড়া অভিযোগ আনলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে।”

তবে আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সিবিআই।

সিসোদিয়ার ক্ষেত্রে আদালত জানিয়েছে, “তাঁর অপরাধমূলক ভূমিকার কোনও সুস্পষ্ট ইঙ্গিত তদন্তকারী সংস্থা দেখাতে পারেনি। যে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছিল, তা পরস্পরবিরুদ্ধ” – পর্যবেক্ষণে জানাল আদালত।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেফতার হয়েছিলেন সিসোদিয়া। প্রায় ১৮ মাস জেলবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পান। ২০২৪ সালের মার্চে একই মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল।

২০২১ সালের নভেম্বরে দিল্লি সরকার নতুন আবগারি নীতি আনে। সরকারি মদের দোকান বন্ধ করে বেসরকারি লাইসেন্সের মাধ্যমে মদ বিক্রির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ৮৪৯টি নতুন দোকান খোলার প্রস্তাব দেওয়া ছিল। সরকার দাবি করেছিল, এতে রাজস্ব বাড়বে ও কালোবাজারি কমবে। কিন্তু লাইসেন্স প্রদানে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় আট মাসের মধ্যেই নীতি প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের সুপারিশে সিবিআই তদন্ত শুরু হয়। জেলে যান মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং উপমুখ্যমন্ত্রী তথা আবগারি দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া। এই মামলা দিল্লির সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড়সড় প্রভাব ফেলেছিল।

আদালতের রায়ের পরেই বিজেপিকে তীব্র নিশানা করেন কেজরিওয়াল। তিনি বলেন- “আপনারা কুর্সি চান, তাহলে ভালো কাজ করে তা অর্জন করুন। এইভাবে দেশের সংবিধান নিয়ে ছেলেখেলা করবেন না। আম আদমি পার্টি সৎ, মণীশ সিসোদিয়াও একজন সৎ মানুষ। বিজেপি আমাদের উপর যেসব দোষ চাপাচ্ছিল, তা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। সমস্ত অভিযোগ থেকে আমাদের রেহাই দিয়েছে। প্রথমেই বলেছিলাম একদিন সত্যের জয় হবে। দেশের বিচারব্যবস্থার উপর প্রথম থেকেই আস্থা ছিল আমার। অবশেষে ন্যায়বিচার করল আদালত, সেজন্য বিচারব্যবস্থাকে ধন্যবাদ।”