বাংলাদেশে ভরাডুবি খালেদার বিএনপির

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয় পেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন। মোট ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টি তাদের দখলে।

রিমা দত্ত, সাংবাদিক: আশির দশক থেকেই বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্যাম্পাসে সংগঠনটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর প্রায় এক দশকের নীরবতা কাটিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট আবার প্রকাশ্য রাজনীতিতে ফেরে ছাত্রশিবির। তাদের এই প্রত্যাবর্তনের এক বছর না যেতেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একতরফা জয় পেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবির। মোট ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টি গিয়েছে তাদের দখলে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপির ছাত্রশাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জিতেছে মাত্র একটিতে। অন্য একটি পদে জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী।

ভিপি (সহ সভাপতি) পদে ছাত্রশিবিরের মহম্মদ ইব্রাহিম হোসেন

৭ হাজার ৯৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন

ইব্রাহিম হোসেন সংগঠনটির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সভাপতি

ইতিহাস বিভাগের এমফিলের শিক্ষার্থী

তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের প্যানেলের

সাজ্জাদ হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৪ ভোট

জিএস পদে ৮ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন একই প্যানেলের সাঈদ বিন হাবিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাহিত্য সম্পাদক ও ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের মহম্মদ শাফায়াত পেয়েছেন ২ হাজার ৭৩৪ ভোট।

সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচনে নজরকাড়া জয় পেয়েছিলেন জামাতপন্থী প্রার্থীরা। চট্টগ্রামে কার্যত অন্য সংগঠনগুলিকে নির্মূল করে দিল ইসলামি ছাত্রশিবির। ছাত্র সংসদের গুরুত্বপূর্ণ সহ-সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদের দখল নিয়েছে তারা। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জিতেছে সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে। ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক পদে জিতেছেন নির্দল প্রার্থী। যাঁর পিছনে ‘নিষিদ্ধ’ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় সমর্থকদের গোপন মদত ছিল বলে কয়েকটি সূত্রের দাবি।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ জানাচ্ছে, এখন পর্যন্ত চাকসু নির্বাচন হয়েছে মাত্র সাতবার। এর আগে শেষ বার ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন জামাতপন্থীরা। ঘটনাচক্রে, সে বছরই চট্টগ্রামে বিদ্রোহী সেনাদের হামলায় নিহত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি তথা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান। এর পরে গত সাড়ে চার দশকে সাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দখল তো দূরের কথা, জামাত কোনও নির্বাচনেই সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি। কিন্তু এ বার জামাতের জয়কে একদা ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের অন্যতম ভরকেন্দ্র চট্টগ্রামের বাঙালি জাতীয়তাবাদের মৌলিক আদর্শের উপরে আঘাত বলে মনে করছেন অনেকে।