২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি এগিয়ে ১৫৬টি আসনে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ৮৬টি আসনে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : বিধানসভা নির্বাচনের গণনায় রীতিমতো নাটকীয় মোড়। সোমবারের প্রবণতা স্পষ্ট করে দিল, বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের মুখে। নির্বাচন কমিশনের হিসেব অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠতার গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে বিজেপি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি এগিয়ে ১৫৬টি আসনে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ৮৬টি আসনে। তাদের সহযোগী দল বিজিপিএম একটি আসনে লিড করছে।
এই ফলাফলের ইঙ্গিত স্পষ্ট—বাংলায় প্রথমবার সরকার গঠনের পথে বিজেপি। টানা ১৫ বছরের তৃণমূল শাসন এবং তার আগে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের পর রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। ফলে চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফেরার যে স্বপ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখেছিলেন, তা কার্যত ধাক্কা খেয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
এদিকে, বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী দলের এই পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত। গণনা চলাকালীন তিনি দাবি করেন, “১৮০-র বেশি আসন নিয়ে বিজেপি সরকার গঠন করবে।” তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “রোতে দিজিয়ে, খতম—পুরা খতম।”
শুভেন্দু আরও বলেন, “সমস্ত হিন্দু ভোট একজোট হয়ে নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে গিয়েছে। চার দফা গণনার পরই স্পষ্ট, বিজেপিই সরকার গড়ছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর ছাড়া মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে তৃণমূল সুবিধা পেলেও অন্যত্র চিত্র আলাদা।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হার নজিরবিহীন। দ্বিতীয় দফায় ৯১.৬৬ শতাংশ এবং প্রথম দফায় ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। সব মিলিয়ে গড় ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৪৭ শতাংশে—যা স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ বলে দাবি নির্বাচন কমিশনের।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। অন্যদিকে বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসে। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের এই ফলাফল শুধু পালাবদলের ইঙ্গিতই নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনার সম্ভাবনাও তৈরি করছে।