জগন্নাথ দেবের রান্নাঘরের খুঁটিনাটি..

প্রবীর মুখার্জী, সাংবাদিক : রান্না করতে হলে অবশ্যই প্রয়োজন জলের। জগন্নাথদেবের রান্নাও জল ছাড়া সম্ভব নয়। শাক-সব্জি ধোয়াই হোক, বা ভোগে অন্ন ধোয়াই হোক কিংবা অন্ন তৈরিতে জল দেওয়াই হোক। সবেতেই জলের প্রয়োজন। কিন্তু, এই জল বাইরে থেকে আসে না। এমনকি কেউ দেখতেও পান না। তবে কোথা থেকে আসে সেই জল!

                                                                                                        রোসাঘরের মধ্যেই রয়েছে দু-দুটি কুয়ো। যাদের নাম শুনলেও অবাক হবেন । গঙ্গা আর যমুনা। এই কুয়োর ব্যাস ১০ ফুট। আর গভীরতা ১০০ ফুটের কাছাকাছি । এই কুয়োর জলই প্রতিদিন ব্যবহার করা হয় জগন্নাথ দেবের ভোগ তৈরির কাজে । জগন্নাথ দেবের রান্নাঘরে কোনও ধাতব বাসন যে ব্যবহার করা হয় না, তা আগেই জানিয়েছি। মাটির তৈরি বাসনই প্রতিদিন ব্যবহার করা হয় প্রভুর ভোগ তৈরির জন্য। সেখানেও আছে কড়া নিয়ম। একবার ব্যবহার করা মাটির তৈরি পাত্র দ্বিতীয়বার আর ব্যবহার করা যাবে না। পাত্র ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সেগুলি নষ্ট করে দেওয়া হয় । পরের দিন আবার নতুন মাটির পাত্রে হবে রান্না। এর জন্য প্রতিদিনই মাটির তৈরি বাসনপত্রের প্রয়োজন হয় জগবন্ধুর এই রান্নাঘরে। তার জন্যও রয়েছে বিশেষ একটি দল। বংশ পরম্পরায় তারাই জগন্নাথ দেবের রান্নাঘরে ভোগ রান্নার জন্য বাসন তৈরি করে আসছে। শুধু ভোগ রান্নাই নয়। জগন্নাথকে এই মাটির পাত্রেই ভোগ নিবেদন করা হয়ে থাকে। এই মাটির পাত্র তৈরি করা এবং তা বয়ে নিয়ে রান্নাঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্যও নিয়োজিত প্রায় হাজার খানের ভক্ত। তারাও কিন্তু, সবাই নিরামিষ আহার গ্রহণ করেন। এই সম্প্রদায়ের মধ্যেও কোনও সদস্যের বয়স ১২ বছর হলেই, তারা ট্রেনিং নিতে পারে। তার আগে কিন্তু এই বিশেষ ট্রেনিং সম্ভব নয়। 
 
                                                                                                

সাধারণ মানুষের কোনও প্রবেশাধিকার নেই এই রান্নাঘরে। তবে রান্নাঘরের চারপাশটা দূর থেকে ঘুরে দেখতে পারেন। বছরের পর বছরই শুধু নয়, খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন যুগের পর যুগ ধরেই পুরীর জগন্নাথ দেবের ভোগের স্বাদ একই রকম। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কীভাবে এটা সম্ভব ! 

                                                                                            
কথিত আছে স্বয়ং মা-লক্ষ্মী এসে তাঁর স্বামীর ভোগ রান্না করে যান । তবে প্রতিদিন কিন্তু নয়। রথের দিন প্রভু যান তাঁর মাসীর বাড়ি। উল্টোরথ পর্যন্ত মা-লক্ষ্মী আর প্রবেশ করেন না জগন্নাথ দেবের এই রান্নাঘরে। প্রভু তাঁর দাদা ও বোনকে নিয়ে মাসীর বাড়ি ঘুরতে গেলেও সঙ্গে নেন না তাঁর পত্নীকে। তাই লক্ষ্মীদেবীর অভিমান হয়। সেই মান ভাঙান স্বয়ং নারায়ণ। যিনি নারায়ণ তিনিই যে বিষ্ণু। আবার তিনিই হলে জগবন্ধু। তিনিই ভগবান শ্রী কৃষ্ণ । অতএব জয় জগন্নাথ। আরও জানতে চোখ রাখুন আর প্লাস নিউজ ডিজিটালে।