Mustafizur Rahman news :মুস্তাফিজুরকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত বিসিসিআইয়ের। বাংলাদেশকে আর এতটুকুও রেয়াত নয়। কলকাতায় খেলে নাম কুড়ানোর স্বপ্নে ছেদ পড়ল মুস্তাফিজুরের।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : গত ১৬ই ডিসেম্বরের নিলামে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় কিনে নেয় কেকেআর। আর তখন থেকেই তাকে নিয়ে চলছে বিবাদ। বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি, যেভাবে ক্রমশ উস্কে দেওয়া হচ্ছে ভারত বিদ্বেষী মনোভাবকে, যেভাবে বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু নিধন হচ্ছে প্রতিদিন বিপন্ন হচ্ছেন সংখ্যালঘু হিন্দুরা সেই আবহে যদি বাংলাদেশ থেকে ক্রিকেটার কিনতে হয় তাও আবার খোদ কলকাতার টিমে তা নিঃসন্দেহে লজ্জার। যে মুস্তাফিজুর আইপিএলে মোটা টাকার বিনিময়ে খেলতে আসছিলেন কলকাতায়, তিনি নিজেও গোটা হিন্দু হত্যাকাণ্ডে নীরব। সামান্য একটা পোস্ট পর্যন্ত নেই তার!যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশও। আর এসবের মাঝে আইপিএলে বাংলাদেশ থেকেই ক্রিকেটার কেনা হচ্ছে! মুস্তাফিজুরকে খেলানোয় প্রবল আপত্তির রব উঠেছিল চারপাশে। বাংলাদেশ হয়ত ভেবেছিল মুস্তাফিজুর কেকেআরে খেললে তা তাদের জন্য এই মুহূর্তে একটা বড় এডভান্টেজ হবে কিন্তু খেলাটা যে এভাবে ঘুরে যাবে তা বাংলাদেশ ঘুণাক্ষরেও আচ করতে পারেনি। এবার মুস্তাফিজুরকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল বিসিসিআই।
এই মরশুমের মত তার আইপিএলে খেলে ফেমাস হওয়ার স্বপ্ন শেষ। কারণ বিসিসিআই সাফ জানিয়ে দিয়েছে কেকেআরকে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি বাদ দিতেই হবে মুস্তাফিজুর রহমানকে। সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল বিসিসিআই। বোর্ড সচিব দেবজিৎ সইকিয়া সংবাদসংস্থা জানিয়েছেন যে, বিসিসিআই থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে জানানো হয়েছে, মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে হবে। বদলে অন্য কোনও প্লেয়ারকে চাইলে তারা নিতে পারে। আসলে আইপিএলের নিলামের পরই শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। একাধিক ধর্মগুরু থেকে শুরু করে বিজেপি নেতারা মুস্তাফিজুরকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে শুরু করেন। শুরুতে যদিও এত বিতর্কের মাঝে চটজলদি কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চায়নি বিসিসিআই। তাদের পক্ষ থেকে জানান হয়, ভারত সরকারের নীতি মেনেই চলবে বোর্ড। আর সেই নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের মুস্তাফিজুরের খেলতে কোনও বাধা নেই আইপিএলে কিন্তু দিনে দিনে এই নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বারছিল। সেই বিষয়টা আঁচ করে ফেলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তাই তাদের পক্ষ থেকে অবশেষে কেকেআর থেকে মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটা বাংলাদেশের কাছে একটা বড় ধাক্কা আর যে ধাক্কার সত্যিই দরকার ছিল বাংলাদেশের জন্য ইউনুসের জন্যেও। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশি বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে সরানোর জন্য ইতিমধ্যেই কেকেআরকে চিঠি দিয়েছে বিসিসিআই সচিব। এবারের আইপিএলের নিলামে মোট সাতজন বাংলাদেশি খেলোয়াড় অংশ নিয়েছিলেন। এদের মধ্যে একমাত্র মুস্তাফিজুরই বিক্রি হয়েছিলেন।

৯.২০ কোটি টাকায় বাংলাদেশি পেসারকে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানের অভিজ্ঞতা যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ৬০টি ম্যাচে তিনি ৬৫টি উইকেট নিয়েছেন, যেখানে তার ইকোনমি রেট ৮.১৩। কিন্তু সে তিনি যাই করুন না কেন, যখন দুই দেশের সম্পর্কের প্রতিদিন অবনতি হচ্ছে যখন ভারতকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে রীতিমতো যে বাংলাদেশে ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে দেওয়া হবে যখন বাংলাদেশের সমস্ত বিষয়ে ভারতের নাম জড়িয়ে মিথ্যে বদনাম করা হচ্ছে তখন কেন মুস্তাফিজুর ভারতের আইপিএল খেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল।আগেই জানিয়েছিলাম মুস্তাফিজুর নিজেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে একেবারে চুপ, রোষানলে পড়ার ভয়, কেরিয়ার নষ্টের ভয় এমনকি প্রাণভয়ও থাকতে পারে তার কিন্তু যে দেশে তিনি খেলতে আসবেন সেই দেশকে তো তার নিজের দেশ অপমানের চেষ্টা করছে, অথচ সেই ভারতের ওপরেই তো বাংলাদেশ বহুক্ষেত্রে নির্ভরশীল। তাকে দলে নেওয়াতে রীতিমতো হুমকির মুখে পড়তে হয় কেকেআরের মালিক শাহরুখ খানকেও। আসলে কেকেআর মুস্তাফিজুরকে দলে নেওয়াতে প্রথম থেকেই আক্রমণের কেন্দ্রে ছিলেন শাহরুখ খান। তাঁকে ‘গদ্দার’ বলতে পিছপা হননি অনেক বিজেপি নেতা। আর সেই তালিকায় উত্তরপ্রদেশের সঙ্গীত সোম থেকে শুরু করে বাংলার অর্জুন সিং রয়েছেন। তাঁরা সকলেই শাহরুখকে আক্রমণ করতে শুরু করেন। এমনকী অর্জুন সিং শাহরুখের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেও তোপ দাগেন। শুধু তাই নয়, বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচিও আক্রমণ করেন শাহরুখকে।

তিনি জানান, মুস্তাফিজুর খেললে কলকাতায় ঢুকতে দেওয়া হবে না শাহরুখকে। এমনকী কলকাতায় খেলতে দেওয়া হবে না মুস্তাফিজুরকেও। আর এই ক্ষোভের আঁচ যে বাড়ছে, সেটা বুঝে গিয়েছিল বিসিসিআই। তাই দল থেকে তাকে বাদ দেওয়া ছাড়া উপায় কি আর! দিনকয়েক আগে উজ্জয়নীর ঋণমুক্তেশ্বর মহাদেব মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মহাবীর নাথও একপ্রকার হুমকির সুরে বলছেন, “ওই বাংলাদেশিকে যদি বিতরণ না করা হয়, তাহলে হিন্দুত্ববাদীরা স্টেডিয়ামে ঢুকে আইপিএল বানচাল করে দেবে। এটাই বোধয় এই পরিস্থিতিতে একেবারে স্বাভাবিক কারণ যেভাবে বাংলাদেশে অত্যাচারিত হচ্ছেন সংখ্যালঘু হিন্দুরা সেই দেশ থেকে কেউ ভারতে খেলতে এলে হিন্দুত্ববাদীরা চটে যাবেনই। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য ২০০৮ সালে মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্ক নেই বললেই চলে। ২০০৯ সাল থেকেই পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের জন্য আইপিএলের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে বিসিসিআই। গত বছর পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও কি একই অবস্থান নিল বিসিসিআই? মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের মনে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত সাময়িক না দীর্ঘমেয়াদী তা অবশ্য এখনই বলা সম্ভব নয়। প্রথমে বাংলাদেশের পরযটকদের জন্য হোটেল বন্ধ এবার ব্যান বাংলাদেশের ক্রিকেটার, মহম্মদ ইউনুস এই ম্যাচ থেকে আপনি বোধয় খুব শীঘ্রই আউট হয়ে যাবেন।