সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলের সাংসদ পদ ছেড়ে দেওয়া কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভার প্রার্থী করল বিজেপি। তৃণমূলত্যাগী অপর তিন জনকে আগেই রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে পদ্মশিবির। কোয়েলের ক্ষেত্রেও যে তেমনটা হতে পারে তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। রবিবার সেই গুঞ্জনেই সিলমোহর দিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কোয়েলের ছেড়ে দেওয়া আসনের উপনির্বাচনে এবার তাঁকেই প্রার্থী করল বিজেপি। আগামী ১৬ অক্টোবর, দুর্গাষষ্ঠীর দিন তাঁর ছেড়ে দেওয়া ওই আসনে উপনির্বাচন রয়েছে। এর আগে, বিজেপি-র টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন তাঁরা।

সুস্মিত মজুমদার, নিজস্ব সংবাদদাতা
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর সঙ্গে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে অভিনেত্রী কোয়েলের নামও ঘোষণা করেছিল পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল। গত মার্চে ভোট হয়েছিল রাজ্যসভায়। কোয়েল পরে ৬ এপ্রিল সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তবে কোনও অধিবেশনে যোগ দেওয়া হয়নি। বাদল অধিবেশন শুরুর আগে ১৬ জুলাই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এরপর কোয়েলের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা শুরু হয়।
তৃণমূল ভেঙে যাওয়ার পর, গত ১৬ জুলাই রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন কোয়েল। কোয়েল এখন বিজেপি-র প্রার্থী হওয়ায় রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদসংখ্যা আরও কমে ৯ হয়ে গেল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত সাংসদ সংখ্যা ছিল ১৩। রাজ্যে তৃণমূলের পতনের পর সুখেন্দুশেখর, প্রকাশ এবং সুস্মিতা পদত্যাগ করেছিলেন। পরে বিজেপি-তে যোগ দিয়ে আবার রাজ্যসভায় যোগ দেন তাঁরা। অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপি-র রাজ্যসভা সাংসদের সংখ্যা বেড়ে ৬ হয়েছে। কোয়েল সাংসদ হলে সংখ্যা বেড়ে হবে ৭। তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দর সিং যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎকার কোয়েলের বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছিল সেই মুহূর্তে।