মণ্ডপে মণ্ডপে নজরদারি, ভিড় নিয়ন্ত্রণে বড়সড় প্রস্তুতি লালবাজারের

দুর্গাপুজোর ট্রাফিক সামলাতে কলকাতা পুলিশের বিশেষ প্রস্তুতি। ৬০০০ পুলিশকর্মী ও ৬০০০ হোমগার্ড মোতায়েনের কথা জানালেন পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ। শহরের ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকবে অ্যাম্বুল্যান্স। প্রকাশিত হল পুজো গাইড ম্যাপ। অন্যদিকে, মিছিল নিয়ে সিপির বার্তা নিয়ম মেনে অনুমতি নিয়ে মিছিল করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা না হয়।

সুস্মিত মজুমদার, নিজস্ব সংবাদদাতা

এবার কলকাতায় দুর্গাপুজোর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৯৮১-তে। গত বছরের তুলনায় ৪০০-রও বেশি পুজো বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে পুজোর দিনগুলিতে শহরের রাস্তায় বাড়তি ভিড় সামলানো পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কথা মাথায় রেখেই তৃতীয়া থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোর দিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। মঙ্গলবার থেকেই রাস্তায় থাকছে বাড়তি পুলিশি নজরদারি। বুধবার চতুর্থীর বিকেল থেকে আরও বড় আকারে পথে নামবেন পুলিশকর্মী ও আধিকারিকরা।

শহরের নামী পুজোগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে লালবাজার। কলেজ স্কোয়ার, মহম্মদ আলি পার্ক, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার ও অ্যালেন পার্কের মতো জনবহুল মণ্ডপগুলির আশপাশে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে। বড় পুজোগুলির কাছে বসানো হবে পুলিশ পিকেট ও সহায়তা কেন্দ্র। শুধু ভিড় নিয়ন্ত্রণ নয়, একটি মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে যাওয়ার পথও যাতে দর্শনার্থীদের কাছে সহজ থাকে, সেদিকেও নজর রাখবেন পুলিশকর্মীরা। বিকেল চারটে থেকে রাস্তায় নামবেন পুলিশ আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করবেন প্রায় ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপার এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাও এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।

নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরজুড়ে মোতায়েন করা হচ্ছে একাধিক বিশেষ পুলিশি বাহন। দুই পর্যায়ে থাকবে ২০টি হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড, ১০টি স্পেশাল রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ৩০টি পিসিআর মোবাইল ভ্যান। ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে এই গাড়িগুলি। কোথাও আগুন লাগা বা অন্য কোনও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পাশাপাশি দমকলের গাড়ির যাতায়াতেও সাহায্য করবে পুলিশ। জলপথেও চলবে নজরদারি। কলকাতা পুলিশের তিনটি লঞ্চ ১৫টি ঘাটে টহল দেবে। পাশাপাশি, অন্য ঘাটগুলির পরিস্থিতির উপরেও নজর রাখা হবে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হচ্ছে ৪২টি ওয়াচ টাওয়ার। সেখান থেকে বাইনোকুলারের সাহায্যে ভিড় ও সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন পুলিশকর্মীরা।

দর্শনার্থীদের সাহায্যের জন্য শহরজুড়ে চালু থাকবে সাতটি মোবাইল পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট ভ্যান। ট্রাফিক সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে ছ’টি জায়গায় থাকবে বিশেষ সহায়তা বুথ। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ন’টি স্থানে মোতায়েন থাকবে কুইক রেসপন্স টিম, যেখানে থাকবেন কমব্যাট বাহিনীর সদস্যরাও।

পুজোর ভিড়ে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে যাতে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়, তার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে ১৪টি পুলিশ অ্যাম্বুল্যান্স ও ১৪টি ট্রমা কেয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। অন্যদিকে, ভিড়ের মধ্যে শিশু বা প্রবীণ কেউ হারিয়ে গেলে তাঁদের খুঁজে পেতে শহরে টহল দেবে ১০টি মিসিং পার্সন স্কোয়াডের গাড়ি। মেট্রোযাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কলকাতার ৩২টি মেট্রো স্টেশনের বাইরেও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। সব মিলিয়ে, বাড়তি পুজো, জনসমাগম এবং যানবাহনের চাপ সামলাতে একাধিক স্তরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে লালবাজার। উৎসবের আনন্দ যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনায় বিঘ্নিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই শহরের রাস্তাঘাট, পুজোমণ্ডপ, ঘাট ও মেট্রো স্টেশনগুলিতে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।