লালুরূপী রাবণ দহনে বিতর্কে জেডিইউ

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ। দুর্গাপুজো বা নবরাত্রি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। অনুষ্ঠানের সঙ্গে সমান্তরালভাবে চলেছে রাজনীতিও। ভোটমুখী বিহারে এই উৎসবকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে নিচ্ছেন রাজনীতিকরা। বিজয়া দশমী বা দশেরা উৎসবে মূলত তির মেরে রাবনের প্রতিকৃতি ধ্বংস করার নিয়ম চলে আসছে। যার অর্থ অশুভকে ধ্বংস করে ফেলা। দীর্ঘদিন চলে আসছে এই রীতি। দিল্লি, মুম্বই, বিহার সহ একাধিক রাজ্যে দশেরার দিনে এভাবেই অশুভকে বিনাশ করার রীতি চলে আসছে। এবার এই দশেরার রাবন সাজানো হল আরজেডি নেতা লালু প্রসাদ যাদবকে। বিহারবাসীকে দশেরা উৎসবের শুভেচ্ছাবার্তা দিতে এমনই এআই ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করল জেডিইউ। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি প্রতিষ্ঠাতা লালুপ্রসাদকে। ভিডিওতে রাবণের মতোই লালুর দশটি মাথা লালুর। সেই মাথাগুলির উপরে লেখা ‘অপরাধ, লুঠ, ভ্রষ্টাচার, ছিনতাই, রংদারী, জাতি হিংসা, হত্যা, অপহরণ, বলাৎকার’। রাবনরূপী লালুপ্রসাদের বুকে তির মারতেই, ধ্বংস হয়ে গেলেন তিনি।

জেডিইউর ভিডিয়োতে দাবি, আরজেডির শাসনে লালুর দল জঙ্গলরাজ কায়েম করেছিল মগধভূমিতে। সেজন্য ওই এআই ভিডিয়োতে তির-ধনুক হাতে রামের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে বিহারের জনগণকে। নীতীশের দল জানিয়েছেন, আসন্ন বিধানসভা ভোটে বিহারের মানুষ লালুর দলকে রাজনৈতিক ভাবে বধ করবে।

আগামী সপ্তাহে বিহারের বিধানসভা ভোট ঘোষণা হতে পারে। তার আগে জেডিইউ বিহারে পরিকল্পিত ভাবে অবমাননাকর প্রচার শুরু করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে আরজেডি। তবে এধরণের ভোটপ্রচার বিহারে নতুন কিছু নয়, ২০২৩ সালে দশেরা উৎসবের সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও রাবণ সাজিয়ে পোস্টার তৈরি করা হয়েছিল। তাঁকে ধর্ম বিরোধী এবং রাম বিরোধী বলে পোস্টার দিয়েছিল বিজেপি। যা নিয়ে চূড়ান্ত বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবারও তার অন্যথা হয়নি। সবমিলিয়ে উৎসবের মরসুমে শ্রেফ আনন্দ করে সময় নষ্ট করতে নারাজ ভোটমুখী বিহারের রাজনীতিকরা।