পুজোর আগে জমি নিলাম ঘিরে সিঁদুরে মেঘ, টাকা ফেরত নিয়ে আশঙ্কায় আমানতকারীরা

পুজোর আগেই বেআইনি অর্থলক্ষ্মী সংস্থাগুলোর থেকে টাকা ফেরতের আশায় প্রহর গুনছেন হাজার হাজার আমানতকারী। তবে জমি নিলাম নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা ঘিরে দেখা দিয়েছে নতুন সিঁদুরে মেঘ। সংশয়— আদৌ কি মিলবে পাওনা ?

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- ২০১৫ সালে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি মঞ্জুলা ছেল্লুর ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে গঠিত হয় একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। নেতৃত্বে ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি শৈলেন্দ্র প্রসাদ তালুকদার। বর্তমানে সেই কমিটির দায়িত্বে আছেন হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার।

কমিটির অধীনে বেআইনি অর্থলোভী সংস্থা ‘আনেক্স গ্রুপ অফ কোম্পানিজ’ ও ‘ওয়ারিশ গ্রুপ অফ কোম্পানিজ’-এর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা নিলামে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৫ অগস্ট এই দুই সংস্থার বেশ কয়েকটি সম্পত্তি নিলামে বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি)।

কিন্তু সেই নিলাম ঘিরেই দেখা দিয়েছে জট। মালদহ শহরের ইবলিশ বাজার থানার অন্তর্গত দুটি সম্পত্তি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। জানা গিয়েছে, ইংলিশবাজার পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত হিরোজপুর এলাকার একটি জমি ইতিমধ্যেই পুরসভা দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দ্বিতীয় সম্প্রতি ইংলিশবাজার থানার অন্তর্গত মৌজা উত্তর নাজিরপুর যেটি ওয়ারিশ গ্রুপ অফ কোম্পানির। এখানেই শুরু হয়েছে সমস্যা
কারণ সেখানে রাতারাতি গজিয়ে উঠেছে একটি মন্দির।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জমিগুলি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গিয়েছে সেগুলি পুরসভার দখলে। ফলে প্রশ্ন উঠছে— দখলমুক্ত না করে কীভাবে সেই জমি নিলামে তোলা সম্ভব? এই অবস্থায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বহু আমানতকারী। তাঁদের আশঙ্কা, পুজোর আগেই টাকা ফেরত পাওয়া হয়তো সম্ভব হবে না।

তবুও ভরসা— বিচারপতি তালুকদারের নেতৃত্বাধীন কমিটি। তাঁদের উপরেই শেষ আশার আলো দেখছেন প্রতারিত আমানতকারীরা।