সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে ‘বাণিজ্যিক অস্ত্র’ করার অভিযোগ তুলে আরশোলাকে!

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : সুপ্রিম কোর্টের বিচার চলাকালীন বিচারপতির মৌখিক পর্যবেক্ষণকে ব্যবহার করে ‘ব্র্যান্ডিং’, ‘প্রচার’ এবং ‘বাণিজ্যিক লাভ’ তোলার অভিযোগে শীর্ষ আদালতেই দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল)। ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে এই মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী রাজা চৌধুরী।
আবেদনে অভিযোগ, আদালতের মন্তব্যকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার, প্রতীকী রাজনৈতিক প্রচারণা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা হয়েছে। পিটিশনে বলা হয়েছে, “‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র কার্যকলাপ, তথাকথিত ট্রেডমার্ক দাবি, ব্র্যান্ডিং প্রচার এবং অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে ডিজিটাল প্রচার— সব মিলিয়ে আদালতের মৌখিক পর্যবেক্ষণকে সংগঠিত ভাবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ মিলছে।”
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি শুনানির সময় কিছু বেকার যুবক-অ্যাক্টিভিস্ট এবং ভুয়ো ডিগ্রিধারী বলে অভিযোগ থাকা কয়েক জন আইন-সংক্রান্ত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে “ককরোচ” ও “পরজীবী” বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে বলে দাবি আবেদনকারীর।
পিটিশন অনুযায়ী, নিজেদের “অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর” বলে পরিচয় দেওয়া ওই সংগঠন দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পায়। একাধিক এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তারা প্রচার চালায়। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ২ কোটি ফলোয়ার জোগাড় করে বলে দাবি করা হয়েছে আবেদনে। যদিও পরে সেই অ্যাকাউন্ট এবং ওয়েবসাইটগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়।
আবেদনকারীর দাবি, এই ধরনের প্রতীকী প্রচার আদালতের কার্যক্রমকে ‘বিনোদন’ এবং ‘বাণিজ্যিক পণ্য’-তে পরিণত করছে। পিটিশনে বলা হয়েছে, আদালতের মৌখিক পর্যবেক্ষণকে ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করা, ডিজিটাল সমর্থন সংগঠিত করা এবং আর্থিক লাভের চেষ্টা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পরিসরের জন্য উদ্বেগজনক।
এ ছাড়াও মামলায় ভুয়ো ডিগ্রি ব্যবহার করে আইন পেশায় যুক্ত থাকার অভিযোগে কিছু ‘ভুয়ো আইনজীবী’র বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে। আবেদনকারী চান, এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হোক সিবিআইকে (Central Bureau of Investigation)।
সুপ্রিম কোর্ট এখনও এই মামলার শুনানির দিন ঘোষণা করেনি। তবে আদালতের মৌখিক পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ব্যঙ্গাত্মক সংগঠনের উত্থান এবং তা ঘিরে আইনি বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হল বলেই মনে করছে আইনমহল।