‘ককরোচ’ আন্দোলনে আটক আইনজীবীরা, সুপ্রিম হস্তক্ষেপে মুক্তি

দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে ধরপাকড়ের মধ্যেই আটক হয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের একাধিক আইনজীবী। শনিবার সকালে শীর্ষ আদালতের চত্বরের বাইরে থেকে তাঁদের আটক করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হস্তক্ষেপে মুক্তি পেলেন তাঁরা। আইনি বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’ এবং ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনজীবীদের মুক্তির জন্য প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন। হস্তক্ষেপ করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও।

শনিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আশপাশ থেকে আইনজীবীদের আটক করার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আইনজীবী মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনজীবীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় দাবি করা হয়, প্রায় ১০০ জন আইনজীবীকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের কয়েক জনকে আটক করে যমুনা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি ওঠে। ধরপাকড়ের কয়েকটি ছবিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে আটক আইনজীবীদের মুক্তির জন্য প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানায় সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন। একই বিষয়ে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশনও। ‘লাইভ ল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনজীবীদের মুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। এর পরেই আটক আইনজীবীদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে খবর।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সেই কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় বহু পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। বিক্ষোভের উপর নজরদারির জন্য পুলিশকর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরাও লাগানো হয়।

বিক্ষোভে যোগ দিতে বিভিন্ন জায়গায় জমায়েতের চেষ্টা হলেই পুলিশ ধরপাকড় শুরু করে বলে অভিযোগ। সেই অভিযানেই আটক হন আইনজীবীরাও। তাঁদের মুক্তির জন্য শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।