লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হচ্ছে না

প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ছক্কা হাঁকালেন শুভেন্দু অধিকারী। বন্ধ হবে না গত সরকারের কোনও সামাজিক প্রকল্প, জানিয়ে দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠক। প্রথম বৈঠকে ছক্কা হাঁকিয়ে ছয় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বন্ধ হবে না গত সরকারের কোনও সামাজিক প্রকল্প। অর্থাৎ এখনই বন্ধ হচ্ছে না লক্ষ্মীরভাণ্ডার প্রকল্প। নির্বাচনে প্রচারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি সরকার সেই মত ছয় প্রতিশ্রুতিতে পড়েছে সিলমোহর। কী সেই ছয় প্রতিশ্রুতি। কবে থেকে চালু হবে বিজেপি সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। তা নিয়েই বাড়ছে জল্পনা। তাড়া হুড়ো নয় ধাপে ধাপে প্রুতিশ্রুতি পূরণ। আগামী সোমবার ফের সিলমোহর পড়বে বর্তমান বিজেপি সরকারের আরও কয়েকটি পরিকল্পনায়। তারও তালিকা তৈরি। কী সেই পরিকল্পনা তা নিয়েও জল্পনা জারি।

এ যেন ঠিক সিংহম স্টাইলে প্রতিশ্রুতি পূরণের বার্তা। সাদা পাঞ্জাবি ,মাথায় তিলক। পিছনে দাঁড়িয়ে চার নব নির্বাচিত মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, অশোক কীর্তনিয়া ও নিশিথ প্রামানিক। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম সাংবাদিক বৈঠক। এতদিন বিরোধী দলনেতা হিসাবে তৃণমূল সরকারের চাঁচাছোলা মন্তব্য করতে শোনা যেত তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পূর্বতন সরকারের সমালোচনা অবশ্যই করলেন তবে তা সংযত ভাষায়। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম হিসাবে যেটা উঠে এল গত এক দশক ধরে যে শাসন চলেছে পশ্চিমবঙ্গে তার থেকে আরও উন্নত ও সুসংহত সরকার দেখবে বাংলা। পাশাপাশি তিনি পরিস্কার বার্তা দিলেন কোনও আলটপকা মন্তব্য নয়। আমি নয় আমরা নীতিতে চলবে সরকার। বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর কানা ঘুষো শোনা যাচ্ছিল, হচ্ছিল চর্চা। মতামত প্রকাশের কতটা স্বাধীনতা মিলবে। ভিন রাজ্যে বিজেপি সরকারের শাসন নিয়ে নানা মত ছড়িয়ে রয়েছে, তাই স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ নিয়েও সন্দিহান বাংলার মানুষ । তা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা ভরসা রাখুন ঠিক পথে চলবো।


প্রথম বৈঠকেই সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে দৃর পদক্ষেপ শুভেন্দু অধিকারী সরকারের। এতদিন সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্র রাজ্য টানাপোড়েন চলতো। সেই প্রসঙ্গের ইতি টানতেই সীমান্ত সুরক্ষায় জোর নব মুখ্যমন্ত্রীর। সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর এবং বিএসএফ-কে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিয়েছে । ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে। সঙ্গে আরও জরুরি সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রীয় সব প্রকল্পের আওতায় যুক্ত হল বাংলা। এবার থেকে আয়ুষ্মান ভারতের আন্ডারে বাংলার মানুষ। সঙ্গে আরও এক বড় সিদ্ধান্ত। যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স পাঁচ বছর বৃদ্ধি করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জি বলেছিলেন, ২০১৫ সালের পর রাজ্যে সরকারি চাকরিতে কোনও নিয়োগ হয়নি। তাই প্রচুর শিক্ষিত যুবক-যুবতীর বয়স চলে গিয়েছে। সে কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়ঃসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হল।


তৃণমূল সরকারের যেমন গেমচেঞ্জার হিসাবে পরিচিত ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। তেমনি বিজেপি সরকারের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে এই প্রকল্প নিয়ে কি সিদ্ধান্ত নেয় তার দিকে তাকিয়ে ছিলেন অনেকেই। এখনও তো চালু হয়নি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। তাই অনেকের মনে এই ভয় ছিল যে তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যাবে নাতো। সেই ভয়ের অবসান ঘটালেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন কোনও চালু সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না। তবে সামাজিক প্রকল্পের পোর্টাল দ্রুত আপলোড হবে। অর্থাৎ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হবে না। বন্ধ হবে না যুবসাথীর মতো জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প। শুধু এখন নতুন প্রকল্প চালু হওয়ার অপেক্ষা। মাসের নির্দিষ্ট সময়েই চালু সব সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা।

আগামী সোমবার ফের ক্যাবিনেট বৈঠক। সেই বৈঠকেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সরকারি বিজ্ঞপ্তি ছাড়া সামাজিক প্রকল্প নিয়ে অন্য কোথাও তথ্য পেলে তা যাচিয়ে দেখবেন। এখন দেখার নতুন সরকার কর্মসংস্থান থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিষয়ে নতুন কি দিশা আনে।